বিচারপতির নামে ৫০ লাখের ঘুষের ফাঁদ! মাদ্রাজ হাইকোর্টে সিনিয়র আইনজীবীকে ঘিরে তুলকালাম

মাদ্রাজ হাইকোর্টে বিচারপতির নাম ভাঙিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের তির সিনিয়র আইনজীবী মুরলী কুমারনের দিকে। জানা গেছে, একটি মামলায় অনুকূল রায় পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি মামলাকারীদের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল অভিযোগ
- মামলা: ২০০৮-০৯ সালের একটি আর্থিক জালিয়াতি মামলা নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত। ইন্ডিয়ান মেটালস অ্যান্ড মিনারেলস ট্রেডিং কর্পোরেশনের প্রায় ১১৩.৩৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নরেশ প্রসাদ আগরওয়াল ও গণেশ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে সিবিআই।
- অভিযোগ: মামলাটি বিচারপতি এম নির্মল কুমারের এজলাসে বিচারাধীন ছিল। অভিযোগ উঠেছে, বিচারপতির নামে ঘুষ নেওয়ার কথা বলে ওই টাকা আদায় করা হয়েছে।
- তদন্তের দাবি: ‘অল ইন্ডিয়া লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর জাস্টিস’ বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের কাছে অভিযোগ জানায়। মন্ত্রক থেকে সেই অভিযোগ মাদ্রাজ হাইকোর্টে পাঠানো হলে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
বিচারপতির কড়া পদক্ষেপ
নিজের নামের সঙ্গে এমন কলঙ্কজনক অভিযোগ জড়ানোয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি এম নির্মল কুমার। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। পাশাপাশি, এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের নেপথ্যে থাকা সত্যতা যাচাইয়ে উচ্চ আদালতকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আইনজীবী মুরলী কুমারন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যে কোনও ধরনের তদন্তের মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত। বিচারব্যবস্থার অন্দরে এমন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ বর্তমানে দক্ষিণী আইনি মহলে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।