স্টিয়ারিং হাতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন হায়দরাবাদের অদম্য নন্দিনী

NEWS DESK : হায়দরাবাদের রাজপথে এক লড়াকু মায়ের জীবনযুদ্ধের গল্প এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। পেশায় উবার চালক নন্দিনী প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই বড় নয়। সম্প্রতি সুরেশ কোচাট্টিল নামে এক যাত্রী নন্দিনীর গাড়িতে সফর করার পর তাঁর সাহসিকতার কাহিনী সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। বিজয়ওয়াড়ার বাসিন্দা এই নারী গত এক বছর ধরে হায়দরাবাদের ব্যস্ত রাস্তায় স্টিয়ারিং হাতে নিজের ও সন্তানদের স্বপ্ন পূরণ করে চলেছেন।
একজন ‘সিঙ্গল মাদার’ হিসেবে তিন সন্তানের ভরণপোষণ এবং তাদের উন্নত শিক্ষার দায়িত্ব একাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন নন্দিনী। উবার অ্যাপে পরপর দুজন চালক রাইড বাতিল করার পর যখন নন্দিনী সেই ট্রিপটি গ্রহণ করেন, তখন তাঁর পেশাদারিত্ব দেখে মুগ্ধ হন যাত্রী সুরেশ। আলাপচারিতায় উঠে আসে তাঁর জীবনসংগ্রামের কথা। প্রতিকূল সমাজব্যবস্থায় দমে না গিয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করে সন্তানদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়াই এখন এই লড়াকু মায়ের একমাত্র লক্ষ্য।
নন্দিনীর এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটিজেনরা। সমাজমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, নারী ক্ষমতায়ন কেবল সভা-সমাবেশ বা স্লোগানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নন্দিনীর মতো নারীরাই এর প্রকৃত উদাহরণ। তাঁর এই কঠোর পরিশ্রম এবং হার না মানা মানসিকতা অনেককেই অনুপ্রাণিত করছে। সন্তানদের প্রতি এক মায়ের নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং মর্যাদার সাথে বাঁচার এই লড়াই সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
হায়দরাবাদের এই ঘটনাটি আরও একবার মনে করিয়ে দেয় যে, পেশা যাই হোক না কেন, নিষ্ঠা ও সততার মাধ্যমে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা জয় করা সম্ভব। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সন্তানদের মানুষ করার জন্য নন্দিনীর এই সংকল্প আজ বহু মানুষের কাছে সাহসের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কোনো প্রচারের আলোয় নয়, বরং নিঃশব্দে রাজপথে গাড়ি চালিয়েই নিজের ক্ষমতায়নের পরিচয় দিচ্ছেন এই অকুতোভয় নারী।