কর্পোরেট সিঁড়ি বেয়ে ওঠার ইঁদুর দৌড়কে বিদায় জানাচ্ছে জেন জি

NEWS DESK : কেরিয়ার মানেই কি দ্রুত পদোন্নতি, মোটা বেতন আর কর্নার অফিস? আধুনিক কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করা জেন জি বা তরুণ প্রজন্মের কাছে সাফল্যের এই চিরাচরিত সংজ্ঞাটি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক তরুণ কর্মী এখন আর নিজেদের ‘অ্যাম্বিশাস’ বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে মনে করেন না। একেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘অ্যান্টি-অ্যাম্বিশন’ ট্রেন্ড। যেখানে পদমর্যাদার চেয়ে মানসিক স্থিতি, সুস্বাস্থ্য এবং কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৭ শতাংশ কর্মী এখন কর্পোরেট সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার আগ্রহ হারিয়েছেন। বিশেষ করে আইটি এবং মিডিয়া সেক্টরে ৩০ বছর পেরোনোর আগেই কর্মীরা ভয়াবহ ‘বার্নআউট’-এর শিকার হচ্ছেন। ফলে জেন জি কর্মীরা এখন নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও মানসিক নিরাপত্তার বিনিময়ে কম বেতনেও রাজি থাকছেন। তাঁদের মতে, কাজ জীবনের একটি অংশ মাত্র, পুরো জীবন নয়। মহামারীর সময় চাকরি হারানো বা বেতন কাটার মতো অভিজ্ঞতা থেকে তাঁরা শিখেছেন যে, কেবল কঠোর পরিশ্রমই পেশাগত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না।
বর্তমানে ‘ড্রিম জব’-এর ধারণা ফিকে হয়ে আসছে। নামী সংস্থায় সারাজীবন কাজ করার বদলে তরুণরা এখন ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন বা নিজস্ব উদ্যোগকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। নিয়োগকর্তাদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ প্রথাগত পদোন্নতির টোপ দিয়ে আর প্রতিভাশালী তরুণদের আটকে রাখা যাচ্ছে না। জেন জি-র এই নতুন মানচিত্র অনুযায়ী, সাফল্য মানে কেবল উচ্চতা ছোঁয়া নয়, বরং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মাঝে একটি সুস্থ সীমারেখা টেনে শান্তিতে বাঁচতে পারা।