বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক কি ধর্ষণ? যুগান্তকারী রায় দিল হাইকোর্ট

NEWS DESK : প্রাপ্তবয়স্ক যুগলের সম্মতিতে গড়ে ওঠা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সম্পর্ক কেবল বিয়ে না হওয়ার কারণে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, দু’জনের সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কের অবনতি বা বিয়ে ভেঙে যাওয়া মানেই সেটি ফৌজদারি অপরাধ নয়। আইনের এই ধরনের প্রয়োগ আদতে বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার বলেই মনে করছে আদালত।
মামলাটির প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, এক তরুণী সুরজ বোরা নামক এক যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও পরে প্রতারণার অভিযোগ এনেছিলেন। পুলিশ সেই ভিত্তিতে চার্জশিটও দাখিল করে। তবে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উভয়ই প্রাপ্তবয়স্ক এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতেই সম্পর্ক ছিল। এখানে শুরু থেকেই প্রতারণার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, বরং পরিস্থিতির কারণে বিয়ে সম্পন্ন হয়নি।
বিচারপতি মামলার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে জানান, ধর্ষণের অভিযোগ টিকিয়ে রাখতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে অভিযুক্তের শুরু থেকেই বিয়ের কোনো সদিচ্ছা ছিল না। যদি দীর্ঘ সময় ধরে বারবার শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়, তবে তা পারস্পরিক সম্মতি হিসেবেই বিবেচিত হবে। শুধুমাত্র শেষ মুহূর্তে বিয়ে না হওয়াকে ভিত্তি করে ধর্ষণের মামলা চালানো অভিযুক্তের প্রতি অযথা হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়।
এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ২০২৩ সালের চার্জশিট এবং মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের এই রায় সম্মতির ভিত্তিতে তৈরি হওয়া সম্পর্কের আইনি সীমারেখা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।