চায়ের বাগান কার দখলে যাবে? মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক নাকি দিদির পাল্টা চালে বাজিমাত

চায়ের বাগান কার দখলে যাবে? মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক নাকি দিদির পাল্টা চালে বাজিমাত

NEWS DESK : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের চা বলয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য ও রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। চা শ্রমিকদের বিশাল ভোট ব্যাঙ্ক নিজেদের দখলে রাখতে এবার সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর (DBT) রণকৌশল নিতে চাইছে বিজেপি। দানির্লিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা সংসদে প্রস্তাব দিয়েছেন যে, ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা’র অর্থ রাজ্য সরকারের মাধ্যমে না পাঠিয়ে সরাসরি শ্রমিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হোক। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে চা বলয়ের রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপির অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার আসাম ও বাংলার চা শিল্পের উন্নয়নে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই অর্থ খরচ করছে না। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে যে, গত পাঁচ বছরে কেন্দ্র এক টাকাও পাঠায়নি। তৃণমূলের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই বিজেপি এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও চটকদার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। পালটা চালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ক্ষমতায় ফিরলে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই টি-বোর্ড বাগান কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলেছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং দার্জিলিংয়ের মতো জেলাগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বিজেপি এখন সরাসরি অর্থ প্রদানের কৌশলে হাঁটছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের চা বাগানে ‘বিজেপি বনাম তৃণমূল’ এবং ‘বুয়া বনাম ভাইপো’র এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত শ্রমিকরা কার দিকে পাল্লা ভারি করেন, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *