নাগরিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারেই কি চাপে সরকার? মরিয়ম নওয়াজের কড়া পদক্ষেপে জল্পনা

নাগরিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারেই কি চাপে সরকার? মরিয়ম নওয়াজের কড়া পদক্ষেপে জল্পনা

NEWS DESK : সাধারণ নাগরিকদের সাথে পুলিশের দুর্ব্যবহার রুখতে এবার বেনজির কড়া পদক্ষেপ নিলেন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ। এখন থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় পুলিশকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘স্যর’, ‘ম্যাডাম’ বা ‘সাহেব’ বলে সম্বোধন করতে হবে। কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের সাথে তুই-তোকারি বা আসাম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পুলিশ আধিকারিকদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মরিয়ম নওয়াজ স্পষ্ট করেন যে, থানায় অভিযোগ জানাতে আসা ব্যক্তি হোক বা রাস্তায় টহলদারির সময় কোনো পথচারী—সবার সঙ্গেই চূড়ান্ত শিষ্টাচার বজায় রাখতে হবে। সম্প্রতি পুলিশের বিরুদ্ধে নাগরিকদের ভয় দেখানো এবং রূঢ় আচরণের একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পরই এই কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য হলো পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বাহিনীতে পেশাদারিত্ব বাড়ানো।

এই নির্দেশিকা কেবল মৌখিক নির্দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি কার্যকর হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের জন্য বডি ক্যাম পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের কথোপকথন সরাসরি রেকর্ড করা হবে, যাতে অভদ্র আচরণের কোনো সুযোগ না থাকে। বাহিনীর সদস্যদের আচরণে পরিবর্তন আনতে বিশেষ প্রশিক্ষণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই এই সৌজন্যের রাজনীতিকে হাতিয়ার করেছেন মরিয়ম নওয়াজ। নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে এই ‘শিষ্টাচার মডেল’ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার। সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *