মাটির নিচে চিনের গোপন পরমাণু যজ্ঞের পর্দাফাঁস করল উপগ্রহচিত্র

NEWS DESK : গোপনে নিজেদের পারমাণবিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বেজিং। সম্প্রতি প্রকাশিত বেশ কিছু উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দাবি করা হয়েছে যে, চিনের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের সিচুয়ান প্রদেশে অত্যন্ত গোপনে পরমাণু অস্ত্রের ভান্ডার ও গবেষণাকেন্দ্রের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে জিটং এবং পিংটন উপত্যকায় গত কয়েক বছরে সন্দেহজনক পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রমাণ মিলেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইম্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সংগৃহীত উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছে, জিটং উপত্যকায় নতুন বাঙ্কার, প্রাচীর এবং বিশালাকার ভবন তৈরি করা হয়েছে। বিপজ্জনক পদার্থ নিয়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইনও সেখানে দৃশ্যমান। অন্যদিকে, পিংটন উপত্যকার একটি ভবনে ৩৬০ ফুট উঁচু চিমনি এবং উন্নত তাপ নিরোধক ব্যবস্থার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সেখানে প্লুটোনিয়াম সমৃদ্ধ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ চলছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও ভৌগোলিক অবস্থান বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রগুলোর গঠনশৈলীর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্রের অদ্ভুত মিল রয়েছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ চিনের হাতে ৬০০-র বেশি পরমাণু অস্ত্র ছিল, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০০-এ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বেজিং। যদিও এই বিপুল সমরাস্ত্র বৃদ্ধির বিষয়ে চিন বরাবরই গোপনীয়তা বজায় রেখে চলেছে।