ভোটের মুখে সিপিআইএমে বড় ভাঙন, এবার কি তবে হাত ছাড়ছেন প্রতীক উর

NEWS DESK : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় ধাক্কা খেল বাম শিবির। দলীয় নেতৃত্বের কর্মপদ্ধতি নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে সিপিআইএম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তরুণ তুর্কি প্রতীক উর রহমান। প্রাক্তন এই এসএফআই নেতা তথা ডায়মন্ড হারবারের গত লোকসভা নির্বাচনের হেভিওয়েট প্রার্থী দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি পাঠিয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই নেতার আচমকা বিদায়ে জেলা ও রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, বেশ কিছু দিন ধরেই জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের রণকৌশল নিয়ে চূড়ান্ত অসন্তুষ্ট ছিলেন প্রতীক উর রহমান। প্রকাশ্যে আসা চিঠিতে তাঁর বয়ান অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের ভাবনার সঙ্গে তিনি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছেন না এবং প্রবল মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে নীতি-নৈতিকতা নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টগুলি যে দলের শীর্ষ স্তরের বিরুদ্ধেই ছিল, পদত্যাগের সিদ্ধান্তে তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেল।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ প্রতীক উরের এই চিঠির প্রসঙ্গটি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরে সিপিআইএম নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। যদিও চিঠির সত্যতা নিয়ে দলীয় স্তরে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়েনি। তবে জেলা স্তরের বাম নেতাদের মতে, প্রতীক উর বরাবরই দলগত শৃঙ্খলা মেনে চলা কর্মী ছিলেন। তাঁর মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতার এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে বামফ্রন্টের ভোটব্যাঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রতীক উর রহমানের এই সিদ্ধান্ত কেবল ব্যক্তিগত মান-অভিমান নাকি এর নেপথ্যে কোনো বড় রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের বৈঠক ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে দলের একাংশের সাফাইয়ে তিনি যে ক্ষুব্ধ ছিলেন, তা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে বারবার প্রকাশ পেয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই পদত্যাগ ডায়মন্ড হারবার-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাম রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল।