পাবনার রমা থেকে সিনেমার মহানায়িকা হয়ে ওঠার অন্তরালে থাকা সেই রহস্যময়ী সুচিত্রা সেন

NEWS DESK : পাবনার এক সাধারণ মেয়ে রমা দাশগুপ্ত থেকে রূপালি পর্দার কিংবদন্তি সুচিত্রা সেন হয়ে ওঠার গল্পটি কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়। ১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ ছবির মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখার কথা থাকলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি। তবে পরের বছরই মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে ‘সাড়ে ৭৪’ ছবিতে জুটি বেঁধে তিনি সৃষ্টি করেন এক নতুন ইতিহাস। দীর্ঘ ২৬ বছরের অভিনয় জীবনে তিনি মোট ৬১টি ছবিতে অভিনয় করেন, যার বড় একটি অংশ জুড়েই ছিল বাঙালির চিরন্তন আবেগ ‘উত্তম-সুচিত্রা’ রসায়ন।
সুচিত্রা সেনের প্রতিভা কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ১৯৬৩ সালে ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান পান তিনি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুরস্কৃত হওয়া প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন এই মহানায়িকা। পরবর্তীতে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করে। পর্দার সেই ব্যক্তিত্ব এবং অভিনয় দক্ষতা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল জনপ্রিয়তার শিখরে।
তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল ১৯৭৮ সালের পর আকস্মিক স্বেচ্ছানির্বাসন। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থেকেও তিনি নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালে নিয়ে যান। এমনকি চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কার নিতেও তিনি জনসমক্ষে আসতে রাজি হননি। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি সেই রহস্যের আড়ালেই থেকে গেছেন। কেন তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন, সেই উত্তর আজও অজানা হলেও মহানায়িকা হিসেবে তাঁর আবেদন আজও বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি।