শেয়ার বাজার ও প্রপার্টিকেও টেক্কা দিল সোনা, বিনিয়োগকারীদের পকেটে এখন কোটি টাকার সুযোগ

দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রিটার্নের দৌড়ে সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছে সোনা। ফাণ্ডস ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক ‘ওয়েলথ কনভারসেশনস রিপোর্ট’ অনুযায়ী, গত ২০ বছরে সোনা বিনিয়োগকারীদের যে পরিমাণ মুনাফা দিয়েছে, তার ধারেকাছে নেই নিফটি ৫০, রিয়েল এস্টেট বা অন্য কোনো ক্ষেত্র।
সোনার অভাবনীয় সাফল্য
২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গত ২০ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, সোনা বার্ষিক গড়ে ১৫.৬% (CAGR) রিটার্ন দিয়েছে। সেখানে শেয়ার বাজারের নিফটি ৫০ সূচক দিয়েছে ১২.৬% রিটার্ন। অন্যদিকে, রিয়েল এস্টেট ও ডেট ইন্সট্রুমেন্টের গড় রিটার্ন যথাক্রমে ৭.৮% ও ৭.৬ শতাংশের আশেপাশে আটকে রয়েছে।
সামান্য পার্থক্যই যখন কোটি টাকার ফারাক
রিপোর্টে দেখানো হয়েছে, বার্ষিক মাত্র ২-৩ শতাংশের পার্থক্য দীর্ঘ সময়ে কত বড় ব্যবধান তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি প্রতি বছর ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে ১২.৬% হারে ২০ বছরে তা দাঁড়াবে প্রায় ৮৭ লক্ষ টাকা। কিন্তু ১৫.৬% হারে সেই একই বিনিয়োগের পরিমাণ গিয়ে ঠেকবে প্রায় ১.২৭ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, সোনার হাত ধরে বিনিয়োগকারীরা কয়েক লক্ষ টাকা বেশি মুনাফা পাচ্ছেন।
কেন পিছিয়ে জমি ও বাড়ি
ভারতের রিয়েল এস্টেট বাজার অত্যন্ত অসংগঠিত এবং এলাকাভেদে এর দাম ভিন্ন হয়। ফলে দেশজুড়ে নির্দিষ্ট হারে রিটার্ন মাপা কঠিন। এনএইচবি রেসিডেক্স ইনডেক্সকে মানদণ্ড ধরলেও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও লভ্যাংশের নিরিখে সোনা অনেক এগিয়ে।
বাজারের অস্থিরতা ও সোনার শক্তি
বছরের বিভিন্ন সময়ে সোনার দামে ১০-১৫% ওঠানামা দেখা গেলেও, ঐতিহাসিকভাবে প্রায় ৭৮ শতাংশ ক্ষেত্রে বছর শেষে সোনা ইতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে। যদিও ১৯৮০-৮৯ বা ২০১২-১৯ এর মতো কিছু সময়ে সোনার পারফরম্যান্স কিছুটা মন্থর ছিল, তবুও মুদ্রাস্ফীতিকে হারিয়ে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ বৃদ্ধিতে সোনা সফল।
বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বাড়ছে
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গোল্ড ইটিএফ-এ (Gold ETF) ২৪,০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ জমা পড়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় রেকর্ড বৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাজারের অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে এবং পোর্টফোলিওতে ভারসাম্য বজায় রাখতে মোট বিনিয়োগের অন্তত ১০-১৫ শতাংশ সোনায় রাখা জরুরি।