কাটোয়া আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ট্রেনে আগুনের নেপথ্যে নাশকতার ইঙ্গিত

NEWS DESK : কাটোয়া রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের কামরায় বিধ্বংসী আগুনের ঘটনায় ঘনীভূত হচ্ছে নাশকতার রহস্য। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটকে দায়ী করা হলেও, তদন্তে নেমে রেল আধিকারিক এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য পেয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীদের দাবি, দুর্ঘটনাবশত নয় বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কামরার ভেতর আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
গত রবিবার ভোররাতে কাটোয়া রেল স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল আজিমগঞ্জগামী লোকাল ট্রেনটি। ছাড়ার কিছুক্ষণ আগেই ট্রেনের একটি মাঝের বগি থেকে দাউদাউ করে শিখা বেরোতে দেখেন স্থানীয় হকার ও রেলকর্মীরা। খবর পেয়ে দমকলের দুটি ইঞ্জিন এসে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে কামরাটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। দ্রুততার সঙ্গে পাশের কামরাগুলো আলাদা করে দেওয়ায় বড়সড় বিপত্তি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি জানিয়েছেন, স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে কিছু সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে বাইরে থেকেই কামরার ভেতরে আগুন ধরানো হয়েছে। চার সদস্যের একটি ফরেনসিক দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরীক্ষা চালিয়েছে। তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ট্রেনের সিট থেকেই প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পরবর্তীতে তা ভয়াবহ রূপ নেয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রেলের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জনবহুল স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে এমন অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ নাকি বড় কোনো নাশকতার ছক ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিস্তারিত ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পরেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে।