ভোটের নথিতে বিরাট রদবদল নিয়ে কমিশনের কড়া বার্তায় তোলপাড় রাজ্য

ভোটের নথিতে বিরাট রদবদল নিয়ে কমিশনের কড়া বার্তায় তোলপাড় রাজ্য

NEWS DESK : আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে এসআইআর (SIR) বা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। তার আগে স্ক্রুটিনি পর্বে নথির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত নির্দিষ্ট ১৩টি নথির বাইরে অন্য কোনও প্রমাণপত্র গ্রাহ্য হবে না। এমনকি ইন্দিরা আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের শংসাপত্রকেও প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে কমিশন। এর ফলে নথিতে অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট তালিকা পুনরায় জেলা স্তরে ফেরত পাঠানো হবে।

কমিশনের এই নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন যোগসাজশ করে কাজ করছে। কেন আগে থেকে এই নিয়মের কথা জানানো হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে তারা। বিশেষ করে বহু আবেদনকারী আবাস প্রকল্পের নথি জমা দেওয়ায় তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শাসক দল। দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন নিয়ম, তা নিয়ে কমিশনের জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে।

কমিশন সূত্রে খবর, জেলা শাসকদের পাঠানো তথ্যে দেখা গেছে প্যান কার্ড বা পেপার কাটিংয়ের মতো অনিবন্ধিত নথিও আপলোড করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত। ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রেও ১৯৯৯ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশিকায় মূলত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলায় বসবাসকারী অবাঙালি সেনা বা আধা-সেনা কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্ক্রুটিনিতে বাদ পড়া ভোটারদের নতুন করে শুনানিতে ডাকার সম্ভাবনা কম থাকায় তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে।

যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁদের জন্য বিকল্প পথও খোলা রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের ৫ দিনের মধ্যে জেলা শাসকের কাছে পুনরায় আবেদনের সুযোগ থাকবে। সেখানেও সমাধান না হলে পরবর্তী ৫ দিনের মধ্যে সিইও দপ্তরে আবেদন করা যাবে। এর পরেও নাম না উঠলে প্রয়োজনীয় নথিসহ নতুন করে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। সঠিক তথ্য ও প্রমাণ সাপেক্ষে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *