নিউটাউনের অভিজাত আবাসনে বিষাক্ত জলের আতঙ্ক, আক্রান্ত ১০০ ছাড়াল

নিরাপদ আবাসন আর উন্নত জীবনযাত্রার টানে যারা নিউটাউনের বুকে আস্তানা গেড়েছিলেন, আজ তাদেরই দিন কাটছে চরম আতঙ্কে। নিউটাউনের অন্যতম নামী আবাসন শাপুরজি ই-ব্লক এখন কার্যত এক মৃত্যুপুরী বা অসুস্থদের ডেরায় পরিণত হয়েছে। পরিস্রুত পানীয় জলের বদলে ট্যাপ দিয়ে বিষাক্ত জল আসার অভিযোগ উঠেছে, যা পান করে ইতিমধ্যেই শতাধিক মানুষ ডায়রিয়ার কবলে পড়েছেন। সোমবার সকাল থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় আবাসন চত্বর।
অসুস্থতার বাড়বাড়ন্ত ও জনরোষ
গত কয়েকদিন ধরেই শাপুরজি ই-ব্লকের বাসিন্দারা পেটের সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু রবিবার রাত থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দেখা যায়, আবাসনের প্রায় প্রতিটি ঘরেই কেউ না কেউ বমি ও প্রবল পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। সোমবার সকাল হতেই সেই সংখ্যা ১০০-র গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার কর্তৃপক্ষকে জলের মান নিয়ে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ক্ষোভে ফেটে পড়া বাসিন্দারা এদিন সকালে ফেসিলিটি ম্যানেজারের অফিস ঘেরাও করেন এবং দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান।
পুলিশের দ্বারস্থ আতঙ্কিত বাসিন্দারা
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে আতঙ্কিত আবাসিকরা শেষ পর্যন্ত টেকনোসিটি থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আবাসিকদের দাবি, পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে নর্দমার নোংরা জল পানীয় জলের ট্যাঙ্কে মিশছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক। এলাকার বাসিন্দারা এখন এতটাই আতঙ্কিত যে, ট্যাপের জল দিয়ে মুখ ধুতেও ভয় পাচ্ছেন। অনেকেরই অভিযোগ, জলের রঙ এবং গন্ধে অস্বাভাবিকতা থাকা সত্ত্বেও ম্যানেজমেন্ট বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য উদ্বেগ
বর্তমানে স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে এলাকার জলের নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ডায়রিয়ার প্রকোপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় এলাকায় মেডিক্যাল টিম পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন আক্রান্তদের পরিবার। যদিও আবাসন ম্যানেজমেন্ট দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু শতাধিক মানুষের অসুস্থতার দায় কে নেবে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই গিয়েছে। আপাতত বাইরে থেকে কেনা পানীয় জলের জারই এখন নিউটাউনের এই অভিজাত ব্লকের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা।