ভোটের আগে বড় ধাক্কা খেল সিপিএম, মহম্মদ সেলিমের সঙ্গ ছাড়লেন এই লড়াকু নেতা

নিউজ ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বাম শিবিরে বড়সড় ভাঙন। আলিমুদ্দিনের অস্বস্তি বাড়িয়ে এবার দল ছাড়লেন সিপিআইএমের অন্যতম প্রভাবশালী যুবনেতা প্রতীক উর রহমান। সরাসরি রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তিনি দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচনের ঠিক আগে প্রতীকের মতো একজন লড়াকু মুখ হারিয়ে রীতিমতো চাপে লাল শিবির।
কেন দল ছাড়লেন প্রতীক? সামনে এল ‘মানসিক দ্বন্দ্ব’
প্রতীক উর রহমান তার পদত্যাগপত্রে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের অভিমানের কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গত বেশ কিছু সময় ধরে দলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কর্মপদ্ধতি এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন না। তার কথায়, বর্তমানে তিনি এক চরম “মানসিক দ্বন্দ্বে”র মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের হয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার এই ইস্তফাপত্র ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
শতরূপ বনাম প্রতীক: বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
এই বিদ্রোহের মূলে রয়েছে দলের অন্দরে চলা দীর্ঘদিনের মতভেদ। সম্প্রতি বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ও মহম্মদ সেলিমের সাক্ষাৎ নিয়ে সিপিএমের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই সময় সেলিমের পক্ষ নিয়ে দলের মুখপাত্র শতরূপ ঘোষ বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। শতরূপ বলেছিলেন, “একমাত্র সিপিএমই কি নৈতিকতার ঠিকা নিয়ে রেখেছে?”
শতরূপের এই ‘নৈতিকতাহীন’ যুক্তির কড়া বিরোধিতা করেছিলেন প্রতীক উর রহমান। পাল্টা জবাবে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, “নৈতিকতা ছাড়া আর সব কিছু হতে পারে, কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টি হতে পারে না।” মূলত দলের নীতি ও আদর্শচ্যুতি নিয়ে শতরূপের সঙ্গে এই সংঘাতই যে প্রতীকের দল ছাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
নির্বাচনী সমীকরণে বড় ক্ষতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক উর রহমানের দলত্যাগ সিপিএমের জন্য বড় দুঃসংবাদ। বিশেষ করে সংখ্যালঘু যুবকদের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল। দলের বর্তমান রণকৌশল এবং নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিচুতলার কর্মীদের একাংশের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ জমা হয়েছে, প্রতীকের ইস্তফা তারই বহিঃপ্রকাশ। ভোটের মুখে এই ভাঙন রোখা এখন মহম্মদ সেলিমদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার, আলিমুদ্দিন তাকে বুঝিয়ে দলে ফেরাতে পারে নাকি এই বিতর্ক বাম শিবিরে আরও বড় কোনো ধসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।