বিদেশিদের পকেটেও এবার ইউপিআই ম্যাজিক! এনপিসিআই-এর নতুন চমকে বদলে যাচ্ছে পেমেন্টের দুনিয়া

নিউ দিল্লি: ভারতের ডিজিটাল বিপ্লবের মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি নতুন পালক। এবার বিদেশি পর্যটক ও অতিথিদের কেনাকাটা আরও সহজ করতে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) চালু করল ‘UPI One World’ পরিষেবা। দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ আসা ৪০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের জন্য এই বিশেষ ওয়ালেট পরিষেবাটি উন্মোচন করা হয়েছে।
এখন থেকে বিদেশি পর্যটকদের ভারতে এসে পেমেন্ট করার জন্য কোনো ভারতীয় মোবাইল নম্বর বা স্থানীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হবে না। তারা নিজেদের দেশের পাসপোর্ট এবং ভিসার মাধ্যমেই এই ডিজিটাল ওয়ালেটে নথিভুক্ত হতে পারবেন।
‘UPI One World’ আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে
এটি একটি প্রিপেইড পেমেন্ট ইনস্ট্রুমেন্ট (PPI) ওয়ালেট, যা বিশেষভাবে বিদেশি পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—
- সহজ রেজিস্ট্রেশন: বিদেশি অতিথিরা তাদের পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য দিয়ে সহজেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
- নগদ টাকার ঝামেলা মুক্তি: ভারী নগদ টাকা বা ফরেক্স কার্ডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি নিজেদের কারেন্সি বা কার্ডের মাধ্যমে এই ওয়ালেট টপ-আপ করা সম্ভব।
- স্ক্যান এবং পে: ভারতের যেকোনো দোকানে কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে এই ওয়ালেটের মাধ্যমে নিমেষেই পেমেন্ট করা যাবে।
কীভাবে মিলবে এই সুবিধা
এনপিসিআই এই প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত সহজতর করেছে। বিদেশি অতিথিরা এই সুবিধাগুলো যেভাবে পাবেন—
১. টাচপয়েন্ট: নতুন দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সামিট ভেন্যু (ভারত মণ্ডপম)-এর ১৪ নম্বর হলে অবস্থিত এনপিসিআই প্যাভিলিয়নে এই পরিষেবা মিলছে।
২. CheqUPI অ্যাপ: পর্যটকদের কেবল ‘CheqUPI’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর কিছু সাধারণ তথ্য দিয়ে এবং একটি সেলফি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নিজেদের ইউপিআই পিন সেট করতে হবে।
৩. লেনদেনের সীমা: এই ওয়ালেটে একবারে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত লোড করা যাবে এবং এর মাসিক সীমা রাখা হয়েছে ৫০,০০০ টাকা।
৪. ব্যালেন্স রিফান্ড: ভ্রমণের শেষে ওয়ালেটে টাকা উদ্বৃত্ত থাকলে, তা সরাসরি পর্যটকের মূল পেমেন্ট সোর্সে অর্থাৎ তার বিদেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া যাবে।
ডিজিটাল ভারতের গ্লোবাল কানেক্ট
এনপিসিআই-এর গ্রোথ এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সোহিনী রজোলা জানান, এই পরিষেবা বিদেশি অতিথিদের ভারতের ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের (DPI) অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। এটি কেবল বিশ্বব্যাপী সংযোগ বাড়াবে না, বরং ভবিষ্যতে আন্তঃসীমান্ত বা ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট ব্যবস্থা কতটা সহজ হতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।