কংগ্রেসের অন্দরে মহাযুদ্ধ! রাহুল কি তবে ব্রাত্য? মণি-ভূপেন কাণ্ডে সুযোগ বুঝে ময়দানে বিজেপি

কংগ্রেসের অন্দরে মহাযুদ্ধ! রাহুল কি তবে ব্রাত্য? মণি-ভূপেন কাণ্ডে সুযোগ বুঝে ময়দানে বিজেপি

কংগ্রেসের অন্দরমহলে যখন গৃহযুদ্ধের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে, ঠিক তখনই ঘৃতাহুতি দিতে মাঠে নামল বিজেপি। সোমবার দিনভর কংগ্রেস শিবিরে যে নাটক চলল, তাতে কার্যত কোণঠাসা রাহুল গান্ধী। প্রবীণ নেতা মণি শঙ্কর আইয়ার থেকে শুরু করে আসামের ভূপেন বোরা— একের পর এক নেতার বিদ্রোহে এখন তটস্থ হাইকমান্ড। আর এই সুযোগেই রাহুল গান্ধীকে ‘ব্যর্থ রাজপুত্র’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ল না গেরুয়া শিবির।

মণি শঙ্কর আইয়ারের বিস্ফোরক মন্তব্য ও দলের অস্বস্তি

বিতর্কের সূত্রপাত হয় প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মণি শঙ্কর আইয়ারের একটি মন্তব্যে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে কেরলে কংগ্রেস নয়, বরং পিনরাই বিজয়নই ক্ষমতায় ফিরছেন। শুধু তাই নয়, দলের মুখপত্র পবন খেরা এবং শশী থারুরকেও তিনি নিশানা করেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে আইয়ার এখন দলের কেউ নন, কিন্তু পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, “আমাকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা একমাত্র মল্লিকার্জুন খাড়গের আছে। আমি নেহরুবাদী, রাজীববাদী কিন্তু রাহুলবাদী নই।”

আসামের ভূপেন বোরার পদত্যাগ নাটক

অন্যদিকে আসামেও কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়ান ভূপেন বোরা। হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি ইস্তফা প্রত্যাহার করে নেন, কিন্তু দলের সমন্বয়হীনতা ততক্ষণে প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

বিজেপির তীক্ষ্ণ আক্রমণ

কংগ্রেসের এই টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, “তৃণমূল বলছে রাহুলকে হটাও আর কংগ্রেসের নিজের নেতারাই তাঁকে মানছেন না। রাহুল গান্ধীর কাছে না আছে জনমত, না আছে নিজের লোকেদের সমর্থন।” বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে ‘পলিটিক্যাল পাপ্পু’ এবং ‘ব্যর্থ বংশধর’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করা হয়েছে যে, রাহুলের নেতৃত্ব এখন তাঁর নিজের দলের নেতারাই গ্রহণ করতে পারছেন না।

সব মিলিয়ে মণি শঙ্কর আইয়ারের বিদ্রোহ এবং আসামের ডামাডোল কংগ্রেসের জন্য বড়সড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা লোকসভা ভোটের আগে মোদী বাহিনীকে নতুন হাতিয়ার তুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *