অফফর্মের বাবর-শাহিন তবুও কেন দলে? পাক ক্রিকেটের অন্দরের চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ্যে

ক্রিকেট কি স্রেফ খেলা নাকি শুধুই টিআরপি আর স্পনসরশিপের লড়াই? মাঠের পারফরম্যান্সে ফ্লপ হওয়ার পরেও বাবর আজম এবং শাহিন শাহ আফ্রিদি পাকিস্তান দলে টিকে আছেন কোন জাদুতে, তা নিয়ে এবার বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। ভারত বনাম পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের হারের ক্ষত দগদগে থাকতেই উঠে আসছে পাক শিবিরের একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের খতিয়ান।
মাঠের লড়াই না রিয়েলিটি শো
বিসিবি-র প্রাক্তন প্রধান রমিজ রাজা থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজমেন্ট— অধিকাংশেরই যুক্তি হলো, ‘স্টার’ খেলোয়াড়রা না খেললে টিভি দেখবে কে? স্পনসরই বা আসবে কোথা থেকে? এই ‘স্টার কালচার’-এর বলি হতে হচ্ছে সালমান মির্জার মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের। ল্যাপটপ আর ডেটা নিয়ে বসা হাই-প্রোফাইল কোচরা কি তবে পারফরম্যান্সের চেয়ে ব্রান্ড ভ্যালুকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?
টস এবং পিচ বুঝতে চরম ব্যর্থতা
কলম্বোর পিচ যেখানে পুরোনো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্থর হয়ে যায়, সেখানে টস জিতে ভারতকে আগে ব্যাটিং করতে পাঠানো ছিল এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। যে পিচে রান তাড়া করা কঠিন, সেখানে কেন এমন ঝুঁকি নেওয়া হলো তা নিয়ে খোদ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বিস্মিত। হেড কোচ মাইক হেসন এবং তার থিঙ্ক ট্যাঙ্ক যে ডেটা সরবরাহ করছেন, তা মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
স্পিনারদের নিস্পৃহ পারফরম্যান্স
পিচ যখন ঘূর্ণি বলের জন্য সহায়ক, তখন শাদাব খান বা আবরার আহমেদরা কেন স্টাম্প লাইন বজায় রাখতে পারলেন না? ভারতের স্পিনাররা যখন দাপট দেখাচ্ছেন, তখন পাক বোলাররা কেবল অতিরিক্ত বৈচিত্র্য দেখাতে গিয়েই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন। টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে ৬১ রানে হারার পর বাবর আজমের ব্যক্তিগত ৫ রান এবং শাহিনের নির্বিষ বোলিং এখন পাকিস্তানের বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ক্রিকেট কি স্রেফ একটি রিয়েলিটি শো হয়ে দাঁড়িয়েছে? যেখানে ফিজিক্স বা ক্রিকেটের মৌলিক ব্যাকরণের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে গ্ল্যামার আর বিজ্ঞাপনী চমক।