বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক কি ঠিক? সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণে তোলপাড় দেশ
বিয়ের আগে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা বা লিভ-ইন রিলেশনশিপ নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একটি ধর্ষণ মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, বিয়ের আগে নারী ও পুরুষ উভয়েরই শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ, আইনি পরিণতির বাইরেও এখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িয়ে থাকে।
বিচারপতি বি.ভি. নাগারত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুইয়ানের ডিভিশন বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন। আদালত জানায়, বিয়ের আগে পর্যন্ত একজন নারী ও পুরুষ একে অপরের কাছে কার্যত ‘অপরিচিত’। তাই হুটহাট সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া বা শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় লিপ্ত হওয়ার আগে পরিণতির কথা ভাবা প্রয়োজন।
পুরো ঘটনাটি ঠিক কী?
মামলাটি ছিল এক যুবকের জামিনের আবেদন নিয়ে। অভিযোগ ছিল, ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটের মাধ্যমে আলাপ হওয়া এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বারবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন ওই যুবক। এমনকি দুবাইতে নিয়ে গিয়েও ঘনিষ্ঠতা তৈরি করা হয় এবং তরুণীর অজান্তেই আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করা হয় বলে অভিযোগ। পরে জানা যায়, ওই যুবক আগে থেকেই বিবাহিত এবং তিনি অন্য এক নারীকে বিয়ে করেন।
আদালতের বিশেষ পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, “হয়তো আমাদের ভাবনা পুরনো দিনের মনে হতে পারে, কিন্তু বিয়ের আগে নারী-পুরুষ একে অপরের অপরিচিত। সম্পর্কের টানাপোড়েন যাই হোক না কেন, বিয়ের আগে এভাবে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার বিষয়টি আমাদের বোধগম্য নয়।”
আদালত আরও প্রশ্ন তোলে যে, অভিযোগকারী নারী যদি সত্যিই বিয়ে নিয়ে সিরিয়াস হতেন, তবে বিয়ের আগে কেন ওই যুবকের সঙ্গে দুবাই পাড়ি দিলেন? আদালতের মতে, এই ধরনের ক্ষেত্রে মহিলারা নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনেন। প্রতারণা এড়াতে এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষায় বিয়ের আগে সংযম ও সতর্কতা জরুরি বলে মনে করছে দেশের শীর্ষ আদালত।