বছরে ৫০ হাজার টাকা প্রিমিয়াম দিয়েও জুটল না চিকিৎসা, মায়ের অসুস্থতায় বিমা সংস্থার চরম অসহযোগিতায় ক্ষুব্ধ গ্রাহক

স্বাস্থ্য বিমার উদ্দেশ্যই হলো বিপদের সময় আর্থিক নিরাপত্তা পাওয়া। কিন্তু লখনউয়ের এক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা সেই ধারণাকেই বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার টাকা প্রিমিয়াম গুনেও মায়ের অসুস্থতার সময় বিমা সংস্থার কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাননি তিনি। উল্টে স্টারের (Star Health) মতো নামী সংস্থার দফতরে দিনের পর দিন ঘুরেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।
অভিযোগের মূল বিষয়
ভুক্তভোগী যুবক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, বিপদের সময় বিমা সংস্থার লখনউ অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর দাবি, সংস্থার প্রতিনিধিরা অত্যন্ত কড়া এবং অসহযোগিতামূলক আচরণ করেছেন। এমনকি ওই যুবক অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে শুনতে হয়েছে— “আমাদের জিজ্ঞেস করে তো পলিসি নেননি!”
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়
এই ঘটনা সামনে আসতেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, প্রিমিয়াম নেওয়ার সময় সংস্থাগুলো যতটা তৎপর থাকে, ক্লেম দেওয়ার সময় কেন ততটাই কঠোরতা দেখায়? কেউ কেউ নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন, আবার অনেকের মতে স্বাস্থ্য বিমা এখন কেবল কাগজের প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে।
বিমা সংস্থার যুক্তি
বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হলে মুখ খুলেছে বিমা সংস্থাটিও। তাদের দাবি, জমা দেওয়া নথিপত্র এবং মেডিক্যাল রেকর্ডের ভিত্তিতেই ক্লেম খারিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত পুরনো কোনও রোগ গোপন করা, ওয়েটিং পিরিয়ড বা নথির অভাব থাকলে বিমা সংস্থাগুলো ক্লেম বাতিল করে দেয়।
তবে এই ঘটনা সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। স্বাস্থ্য বিমা করার সময় কেবল প্রিমিয়াম নয়, বরং পলিসির শর্তাবলি, কভারেজের সীমা এবং ক্লেম সেটেলমেন্টের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।