হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে মামলা শুনতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, কেন সরাসরি হাইকোর্টকে গুরুত্ব দিলেন প্রধান বিচারপতি

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিতর্কিত মন্তব্য ও ‘মিঁয়া মুসলিম’ সংক্রান্ত ভিডিও নিয়ে দায়ের হওয়া পিটিশনে বড় ধাক্কা খেলেন আবেদনকারীরা। সোমবার এই মামলার শুনানি করতে অস্বীকার করে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ‘শর্টকাট’ নেওয়া যাবে না।
সরাসরি শীর্ষ আদালতে কেন? প্রশ্ন তুলল বেঞ্চ
সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজা এবং অন্য এক আবেদনকারীর করা মামলার শুনানিতে বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ বিরক্তি প্রকাশ করেন। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, আবেদনকারীরা কেন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে না গিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে এসেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হাইকোর্টের ক্ষমতাকে খাটো করা উচিত নয় এবং প্রতিটি মামলা সরাসরি শীর্ষ আদালতে আসা উদ্বেগের বিষয়।
হাইকোর্টকে দ্রুত শুনানির আর্জি
আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি এবং সিইউ সিং যুক্তি দেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য শুধু আসাম নয়, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়কেও প্রভাবিত করছে। কিন্তু আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, সঠিক আইনি প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করতে হবে। তবে আবেদনকারীদের অনুরোধে সুপ্রিম কোর্ট গুয়াহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই মামলাটি দ্রুত শোনার জন্য আর্জি জানিয়েছে।
অভিযোগের নেপথ্যে কী ছিল?
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল যে, গত ২৭ জানুয়ারি হিমন্ত বিশ্বশর্মা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। এছাড়া আসাম বিজেপির এক্স হ্যান্ডেল থেকে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী রাইফেল দিয়ে লক্ষ্যভেদ করছেন এবং তাঁর সামনে টুপি ও দাড়ি থাকা দুই ব্যক্তির ছবি রাখা হয়েছে। এই ধরনের কনটেন্ট সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে শত্রুতা উস্কে দিচ্ছে বলে দাবি করেন অ্যানি রাজা।
শীর্ষ আদালত এই মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে আবেদনকারীদের গুয়াহাটি হাইকোর্টে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।