সুপ্রিম কোর্টে শবরীমালা মামলা, মন্দিরে কি প্রবেশাধিকার পাবেন মহিলারা? ৯ বিচারপতির বেঞ্চে মহালড়াই

সুপ্রিম কোর্টে শবরীমালা মামলা, মন্দিরে কি প্রবেশাধিকার পাবেন মহিলারা? ৯ বিচারপতির বেঞ্চে মহালড়াই

নয়াদিল্লি: ধর্মস্থানে কি আর লিঙ্গবৈষম্য বজায় রাখা সম্ভব? কেরালা শবরীমালা মন্দির থেকে শুরু করে মসজিদ বা পার্সি অগ্নিকুণ্ড— সব জায়গায় মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে এবার চূড়ান্ত ফয়সালা করতে চলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আগামী ৭ এপ্রিল থেকে সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতির বিশেষ সংবিধান বেঞ্চে শুরু হচ্ছে এই ঐতিহাসিক মামলার শুনানি।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন এই বেঞ্চে থাকছেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পঞ্চোলি-সহ আরও ৭ বর্ষীয়ান বিচারপতি। আদালত সূত্রে খবর, আগামী ২২ এপ্রিলের মধ্যেই শুনানি শেষ করে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে শীর্ষ আদালত।

তালিকায় কোন কোন ইস্যু? মূলত শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশের অনুমতি নিয়ে ২০১৮ সালের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একাধিক রিভিউ পিটিশন জমা পড়েছিল। কিন্তু শুধু হিন্দু ধর্ম নয়, এই শুনানিতে অন্য ধর্মের বৈষম্যমূলক রীতিনীতিগুলিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে আদালত। প্রধানত তিনটি বিষয় থাকছে আতসকাঁচের তলায়:

  • শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশাধিকার।
  • মুসলিম মহিলাদের মসজিদ এবং দরগায় প্রবেশের অধিকার।
  • অ-পার্সি পুরুষকে বিয়ে করা পার্সি মহিলাদের পবিত্র অগ্নিকুণ্ডে প্রবেশের সুযোগ।

সরকারের অবস্থান ও আদালতের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, তাঁরা শবরীমালা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার পক্ষেই মত দিচ্ছেন। অন্যদিকে, আদালত কে পরমেশ্বর এবং শিবম সিংকে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ বা আদালতের বন্ধু হিসেবে নিযুক্ত করেছে।

২০২০ সালেই শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল যে, ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিধি কতটা হবে তা নির্ধারণে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে। যার মধ্যে অন্যতম হলো— কোনো বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠীর বাইরের কেউ জনস্বার্থ মামলা করে সেই ধর্মের দীর্ঘদিনের রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন কি না। ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই আইনি লড়াইয়ের দিকে এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলি একনজরে * ১৪ মার্চ: দু-পক্ষকে লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার শেষ সময়।

  • ৭-৯ এপ্রিল: পুনর্বিবেচনার আবেদনকারীদের শুনানি।
  • ১৪-১৬ এপ্রিল: আবেদনের বিরোধিতাকারীদের বক্তব্য পেশ।
  • ২১-২২ এপ্রিল: চূড়ান্ত সওয়াল-জবাব এবং আইনি প্রতিনিধিদের বক্তব্য।

ভারতের বিচারবিভাগের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় ঘটনা হতে চলেছে কারণ এই রায়ের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের অধিকারের ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *