ভারতবধে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ক্রিকেট দলে শুরু বড় রদবদল বাদ পড়ছেন বাবর আজম ও আফ্রিদি

কলকাতা নিউজ ডেস্ক
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে লজ্জাজনক হারের পর কার্যত ভূমিকম্প শুরু হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট মহলে। টিম ইন্ডিয়ার দাপটে খড়কুটোর মতো উড়ে যাওয়া বাবর আজমদের পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, দলের তথাকথিত ‘সিনিয়র’ স্তম্ভদের ছেঁটে ফেলে একঝাঁক তরুণ তুর্কিকে সুযোগ দেওয়ার পথে হাঁটছে ম্যানেজমেন্ট।
মোহসিন নকভির ক্ষোভ ও ড্রেসিংরুমের অশান্তি
ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীনই গ্যালারিতে পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভির চোখেমুখে ফুটে উঠেছিল চরম বিরক্তি। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই তিনি মাঠ ত্যাগ করেন, যা দলের প্রতি তাঁর অনাস্থার স্পষ্ট ইঙ্গিত। সূত্রের খবর, ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে মেজাজ হারান হেড কোচ মাইক হেসন। দলের জঘন্য পারফরম্যান্সের জন্য ক্রিকেটারদের কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেন তিনি। সেই রাতেই টিম ম্যানেজমেন্টের এক দীর্ঘ বৈঠক চলে, যেখানে সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাবর-আফ্রিদিদের বিদায় ঘণ্টা
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অধিনায়ক বাবর আজম মাত্র ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। অন্যদিকে, বোলিংয়ে শাহীন শাহ আফ্রিদি ২ ওভারে ৩১ রান দিয়ে কার্যত ভারতের রানের গতি বাড়িয়ে দেন। শাদাব খানও ১ ওভারে খরচ করেন ১৭ রান। মাঠের এই ব্যর্থতার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের রোষের মুখে পড়েছেন এই ত্রয়ী। জানা গেছে, সুপার-৮ পর্বে পৌঁছানোর লড়াইয়ে টিকে থাকতে বাবর আজম, শাহীন আফ্রিদি এবং শাদাব খানের মতো অভিজ্ঞদের আগামী ম্যাচগুলো থেকে বসিয়ে রাখা হতে পারে। তাঁদের পরিবর্তে ফখর জামানের প্রত্যাবর্তন এবং নবাগত তরুণ ফাস্ট বোলারদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাঁচা-মরার লড়াই ও নব্য রণকৌশল
যদিও পাকিস্তান এর আগে আমেরিকা ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছে, কিন্তু ভারতের কাছে এই হার তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটি এখন পাকিস্তানের জন্য কার্যত ‘ডু অর ডাই’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ম্যাচে হারলে সুপার-৮ এর রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। বোর্ড চাইছে মিডল অর্ডারে সম্পূর্ণ নতুন মুখদের পরীক্ষা করতে এবং নাসিম শাহর মতো বোলারদের ওপর বেশি ভরসা রাখতে।
ভারতের কাছে এই হার কেবল একটি ম্যাচ হার নয়, বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, বড় তারকাদের ছেঁটে ফেলে নতুন রক্ত সঞ্চালন করে পাকিস্তান আদৌ বিশ্বকাপে টিকে থাকতে পারে কি না।