আকাশে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য নাকি অশুভ সংকেত, আগামীকাল বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ নিয়ে তোলপাড়

আকাশে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য নাকি অশুভ সংকেত, আগামীকাল বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ নিয়ে তোলপাড়

২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার মেনে প্রকৃতিতে বসন্তের ছোঁয়া লাগলেও মহাকাশে ঘটতে চলেছে এক বিরল ঘটনা। আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি, ফাল্গুনী অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে দাঁড়ায় এবং সূর্যের আলোকে পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তখনই তৈরি হয় এই মায়াবী অন্ধকার। বিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি চমৎকার মহাজাগতিক দৃশ্য হলেও ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রে এর গুরুত্ব ও প্রভাব নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

গ্রহণের সময়সূচী ও স্থায়িত্ব

আগামীকালকের এই সূর্যগ্রহণটি দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসেব অনুযায়ী, গ্রহণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি চলবে প্রায় ৪ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ধরে।

  • গ্রহণ শুরু: দুপুর ৩টে ২৬ মিনিটে।
  • গ্রহণ শেষ: রাত ৭টা ৫৭ মিনিটে।

ভারত থেকে কি দেখা যাবে এই দৃশ্য

মহাকাশ প্রেমীদের জন্য কিছুটা দুঃসংবাদ হলো, এই সূর্যগ্রহণটি ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে না। এশিয়া মহাদেশের বেশিরভাগ অংশ যেমন শ্রীলঙ্কা, নেপাল, আফগানিস্তান এবং মায়ানমারেও এই গ্রহণ দেখা যাবে না। এছাড়া ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার মানুষও এই দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন না। তবে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে এই গ্রহণ স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাম্বিয়া, মরিশাস, আর্জেন্টিনা, তানজানিয়া এবং চিলির মতো দেশগুলো থেকে এই বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যাবে। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় এলাকা থেকেও এটি পরিলক্ষিত হবে।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও করণীয় বিধি

সনাতন ধর্মে সূর্যগ্রহণকে অশুভ সময়ের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। এই সময়ে কোনো শুভ কাজ করার অনুমতি নেই। তবে আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য জপ, তপ এবং ধ্যানের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু ভারতে এই গ্রহণ দেখা যাবে না, তাই শাস্ত্রীয় ‘সূতক কাল’ এখানে কার্যকর হবে না। তবুও মানসিক প্রশান্তি ও গ্রহদোষ কাটানোর জন্য কিছু নির্দিষ্ট বিধি পালনের কথা বলা হয়েছে।

  • মন্ত্র জপ: গ্রহণের সময় “ওঁ হ্রীং হ্রীং হ্রৌং সঃ সূর্যায় নমঃ” মন্ত্রটি পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক। এছাড়া অন্তত ১১ বার সূর্য গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করলে নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • দান-ধ্যান: গ্রহণ পরবর্তী সময়ে গম, গুড় এবং তামার পাত্র দান করা শুভ বলে মনে করা হয়। লাল রঙের পোশাক বা সিঁদুর দান করলে সূর্য দোষ কেটে যায় বলে বিশ্বাস।
  • শুদ্ধিকরণ: গ্রহণ শেষে স্নান সেরে সারা বাড়িতে গঙ্গাজল বা সৈন্ধব লবণ মিশ্রিত জল ছিটানো উচিত। এতে গৃহের অশুভ শক্তি দূর হয়।

বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাস

জ্যোতিষীরা যখন গ্রহণের কুপ্রভাব থেকে বাঁচতে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন, ঠিক তখনই যুক্তিবাদী এবং বিজ্ঞানীরা একে নিছকই এক মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এটি প্রকৃতির এক অপূর্ব মেকানিজম যা কোনোভাবেই মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে না। বরং এই সময়টি মহাকাশ গবেষণার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

আপনি যদি এই গ্রহণ দেখার সুযোগ পান, তবে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক সতর্কতা মেনে চোখের সুরক্ষা নিয়ে এই মহাজাগতিক বিস্ময় উপভোগ করতে পারেন। আর যদি আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী হন, তবে দিনটি কাটুক প্রার্থনা ও ধ্যানে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *