ভোটার তালিকায় কারচুপি রুখতে কড়া কমিশন, ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ‘ফর্ম-৭’ জমা দেওয়ার চরম সময়সীমা

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া সংক্রান্ত ‘ফর্ম-৭’ নিয়ে এবার নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার আবেদনপত্র পুড়িয়ে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের প্রেক্ষিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে জমা পড়া সমস্ত ‘ফর্ম-৭’ সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO) ও এ-ইআরও (AERO)-দের কাছে পাঠাতে হবে যাতে দ্রুত সেগুলোর নিষ্পত্তি করা যায়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখতে কোনো প্রকার গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও আসাম্পূর্ণ তথ্য আপলোডের অভিযোগে রাজ্যের সাতজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (AERO) ইতিমধ্য়েই সাসপেন্ড করা হয়েছে। ময়নাগুড়ি, সুতি, ক্যানিং পূর্ব, ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ ও ডেবরা বিধানসভা এলাকার এই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে রাজ্যের মুখ্যসচিবকেও চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে জনমানসে স্বচ্ছতা ফেরানোই কমিশনের মূল লক্ষ্য। শীর্ষ আদালতের গাইডলাইন মেনে প্রতিটি দাবি ও আপত্তির সঠিক নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।