২৬-এর মহারণ: ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে কি হারানো জমি ফিরবে তৃণমূলের, নাকি পদ্মেই আস্থা?

২৬-এর মহারণ: ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে কি হারানো জমি ফিরবে তৃণমূলের, নাকি পদ্মেই আস্থা?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। একদা তৃণমূলের শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে গত ২০২১ সালের নির্বাচনে বড়সড় পটপরিবর্তন ঘটে। উত্তরবঙ্গের রাজনীতির মানচিত্র বদলে দিয়ে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। আসন্ন নির্বাচনে ফের ঘাসফুল ফুটবে নাকি পদ্ম শিবির তাদের আধিপত্য বজায় রাখবে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে।

২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা গৌতম দেব। ২০১৬ সালেও তিনি বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছিলেন। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে সমস্ত সমীকরণ উল্টে দিয়ে বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় ১ লক্ষ ২৯ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি প্রায় ২৭,৫৯৩ ভোটের ব্যবধানে তৎকালীন মন্ত্রী গৌতম দেবকে পরাজিত করে তৃণমূলের দুর্গে বড়সড় থাবা বসান।

আগামী ২০২৬-এর নির্বাচন এখন উভয় শিবিরের কাছেই এক বড় চ্যালেঞ্জ এবং সম্মানের লড়াই। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে বুথ স্তরে শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি তাদের বর্তমান ভোটব্যাংক অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির ফলাফলই স্পষ্ট করে দেবে আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক হাওয়া কোন দিকে বইবে। ভোটাররা কি উন্নয়নের নিরিখে পুরনো নেতৃত্বের ওপর ভরসা রাখবেন, নাকি বর্তমান বিধায়কের ওপরেই আস্থা বজায় রাখবেন, তার উত্তর মিলবে কেবল ভোটবাক্সেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *