বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া আর খুনের ছক! অপহরণের নাটক ফেঁদেও শেষ রক্ষা হলো না প্রেমিকের

বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া আর খুনের ছক! অপহরণের নাটক ফেঁদেও শেষ রক্ষা হলো না প্রেমিকের

বর্ধমান: বন্ধুর অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে গড়ে উঠেছিল গভীর প্রেম। সেই প্রেমের পথের কাঁটা সরাতে নিজের বন্ধুকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নৃশংস ছক কষল প্রেমিক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার খেতিয়া বিজয়বাটি এলাকায়। পুলিশ ইতিমধ্য়েই নিহতের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা এবং তাঁর প্রেমিক মমতাজউদ্দিন শেখকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঘটনার নেপথ্যে কী ছিল?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত সফিকুল ইসলাম আনসারি (৪৪) কর্মসূত্রে চেন্নাইয়ে থাকতেন। সেই সুযোগেই তাঁর বন্ধু মমতাজউদ্দিনের সঙ্গে সফিকুলের স্ত্রী রাজিয়ার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মমতাজউদ্দিন নিজেও বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও রাজিয়াকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। আর সেই উদ্দেশ্য পূরণ করতেই সফিকুলকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়।

অপহরণের সাজানো নাটক

রবিবার সফিকুল সপরিবারে মমতাজউদ্দিনের বাড়িতে আমন্ত্রিত ছিলেন। সেখান থেকে দুজনে মিলে একটি গয়নার দোকানে যান। এরপর সন্ধ্যায় মমতাজউদ্দিন থানায় এসে দাবি করেন যে, ফেরার পথে দুষ্কৃতীরা তাঁদের পথ আটকে সফিকুলকে অপহরণ করেছে। কিন্তু পুলিশের জেরায় তাঁর কথায় একাধিক অসংলগ্নতা ধরা পড়ে।

তদন্তে উঠে এল আসল সত্য

তদন্তকারীরা মমতাজউদ্দিনকে আটকে রেখে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। জানা যায়, রাজিয়া ও মমতাজউদ্দিন মিলেই সফিকুলকে খুনের ছক কষেছিলেন। এরপর একটি সেচ ক্যানেল থেকে সফিকুলের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, কোনও ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়েছে।

পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *