২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ কাল, সূর্য দোষ কাটিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না

২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণের মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার ফাল্গুন অমাবস্যার দিনে বছরের এই প্রথম মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই সময়টি জন্মকুণ্ডলীতে থাকা অশুভ ‘সূর্য দোষ’ কাটানোর জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। আপনার অজান্তেই কি রাহু, কেতু বা শনির প্রভাবে সূর্যের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে? তবে এই বিশেষ দিনে কিছু সহজ নিয়ম পালনেই ফিরতে পারে আপনার হারানো আত্মবিশ্বাস ও সৌভাগ্য।
সূর্য দোষ কী এবং এর নেতিবাচক প্রভাব
জন্মকুণ্ডলীতে সূর্য অশুভ অবস্থায় থাকলে তাকে সূর্য দোষ বলা হয়। এর ফলে ব্যক্তির জীবনীশক্তি ও কর্মজীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে পিতা-পুত্রের সম্পর্কে তিক্ততা, প্রশাসনিক কাজে বাধা, কর্মক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া বা অকারণ স্বাস্থ্যহানির মতো সমস্যা দেখা দেয়। ১৭ ফেব্রুয়ারির এই গ্রহণকালই হতে পারে এই দোষ থেকে মুক্তি পাওয়ার মোক্ষম সময়।
সূর্যগ্রহণের সময়সূচী: কখন শুরু ও শেষ?
২০২৬ সালের এই প্রথম সূর্যগ্রহণটি ভারতীয় সময় অনুসারে বিকেল ৩টে ২৬ মিনিটে শুরু হবে এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৭ মিনিটে। প্রায় ৪ ঘণ্টা ৩২ মিনিট স্থায়ী হবে এই গ্রহণ। যদিও এই গ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে না, তাই ভারতে সূতক কাল কার্যকর হবে না। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে, আর্জেন্টিনা, চিলি এবং অ্যান্টার্কটিকা সংলগ্ন অঞ্চল থেকে এই গ্রহণ প্রত্যক্ষ করা যাবে।
সূর্য দোষ কাটাতে যা করবেন
ভারত থেকে গ্রহণ দেখা না গেলেও আধ্যাত্মিক ও জ্যোতিষ মতে এই সময়ে বিশেষ কিছু আচার পালন করলে সুফল পাওয়া যায়।
- মন্ত্র জপ: গ্রহণ চলাকালীন মন শান্ত রেখে সূর্যের বীজ মন্ত্র ‘ওম হ্রম হ্রীম হ্রম সহ সূর্যায় নমঃ’ জপ করুন। এছাড়া সূর্য গায়ত্রী মন্ত্র অন্তত ১১ বার পাঠ করা অত্যন্ত শুভ।
- দান-ধ্যান: গ্রহণ শেষে গম, গুড় বা তামার পাত্র দান করলে সূর্যের অশুভ প্রভাব কেটে যায়। লাল রঙের পোশাক বা জাফরান দান করলেও বিশেষ পুণ্য লাভ হয়।
- শুদ্ধিকরণ: গ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পর স্নান সেরে সারা ঘরে গঙ্গা জল বা সৈন্ধব লবণ মিশ্রিত জল ছিটিয়ে দিন। এতে নেতিবাচক শক্তি দূর হয়।
- অর্ঘ্য প্রদান: গ্রহণের পরের দিন সূর্যোদয়ের সময় তামার পাত্রে জল নিয়ে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য নিবেদন করুন এবং ‘ওঁ সূর্যায় নমঃ’ মন্ত্রটি উচ্চারণ করুন।
পেশাদার জ্যোতিষীদের মতে, এই সময়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা এবং ইষ্টদেবতার ধ্যান করলে আপনার আটকে থাকা উন্নতির পথ প্রশস্ত হতে পারে। তাই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজের ও পরিবারের মঙ্গল সুনিশ্চিত করুন।