ভারতে কি নিষিদ্ধ হচ্ছে বহুবিবাহ? জানুন পলিগ্যামি নিয়ে আসল সত্যিটা

ভারতে কি নিষিদ্ধ হচ্ছে বহুবিবাহ? জানুন পলিগ্যামি নিয়ে আসল সত্যিটা

পারিবারিক এবং সামাজিক কাঠামোর মধ্যে ‘বিবাহ’ একটি অত্যন্ত পবিত্র বন্ধন। ভারতীয় সমাজে সাধারণত ‘এক পতি-এক পত্নী’ প্রথাই প্রচলিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ (ইউসিসি) এবং আসাম সরকারের কিছু পদক্ষেপের কারণে ‘পলিগ্যামি’ বা বহুবিবাহ বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

পলিগ্যামি আসলে কী? সহজ ভাষায়, যখন কোনো ব্যক্তি আইনত একের বেশি জীবনসঙ্গীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, তাকেই পলিগ্যামি বলা হয়। এর দুটি প্রধান ধরন রয়েছে: ১. পলিজিনি: যখন একজন পুরুষ একাধিক নারীকে বিবাহ করেন। এটিই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। ২. পলিঅ্যান্ড্রি: যখন একজন নারী একাধিক পুরুষের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই প্রথাটি অত্যন্ত বিরল।

ভারতীয় আইন ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ভারতে বিবাহের নিয়মগুলো মূলত ব্যক্তিগত আইন বা ‘পার্সোনাল ল’ অনুযায়ী পরিচালিত হয়:

  • হিন্দু, খ্রিস্টান এবং শিখ ধর্ম: ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখদের জন্য দ্বিতীয় বিবাহ দণ্ডনীয় অপরাধ। খ্রিস্টান ধর্মের ক্ষেত্রেও এটি অবৈধ।
  • মুসলিম ধর্ম: মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অনুযায়ী, একজন মুসলিম পুরুষ সর্বোচ্চ চারজন নারীকে বিবাহ করতে পারেন।

বর্তমানে এই প্রথার চিত্র ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (NFHS-5)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে বহুবিবাহের হার মাত্র ১.৪ শতাংশ। উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু আদিবাসী অঞ্চল, হিমাচল প্রদেশের কিন্নর এবং উত্তরাখণ্ডের কিছু দুর্গম এলাকায় এখনো পলিঅ্যান্ড্রি বা বহুপতি প্রথার বিচ্ছিন্ন উদাহরণ দেখা যায়।

আইনি কড়াকড়ি ও পরিবর্তন বর্তমানে ভারত সরকার ‘এক দেশ, এক আইন’ নীতির দিকে এগোচ্ছে। উত্তরাখণ্ড ইতিমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) কার্যকর করেছে, যেখানে ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য দ্বিতীয় বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আসাম সরকারও বহুবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে কঠোর আইন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নারী অধিকার ও আধুনিক সমাজ মানবাধিকার কর্মী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বহুবিবাহ প্রথা অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের সামাজিক অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। আধুনিক যুগে বৈবাহিক সমতা এবং পারস্পরিক সম্মানই একটি সুখী ও সুস্থ সমাজের মূল ভিত্তি। তাই সময়ের সাথে সাথে এই প্রাচীন প্রথাগুলো এখন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেওয়ার পথে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *