বঙ্গ নির্বাচনের আগে বাম শিবিরে বড় ধাক্কা, সেলিমের মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

কলকাতা: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কার্যত রাজনৈতিক ভূমিকম্প বাম শিবিরে। পদত্যাগ করলেন সিপিআইএমের তরুণ তুর্কি নেতা প্রতীক উর রহমান। সোমবার দলের রাজ্য কমিটি ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের এই প্রাক্তন লোকসভা প্রার্থী। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের এই ঘটনায় রীতিমতো হড়কম্প পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
মোহাম্মদ সেলিমের রহস্যময় প্রতিক্রিয়া
প্রতীকের ইস্তফা নিয়ে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও চমকপ্রদ উত্তর দেন। সেলিম বলেন, “এটি দলের অভ্যন্তরীণ ও সাংগঠনিক বিষয়। সংগঠনের বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া বা সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয় না। রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই নিয়ে কথা হবে।” সেলিমের এই এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দলের অন্দরে আরও জল্পনা উসকে দিয়েছে।
বিক্ষুব্ধ বামপন্থী বুদ্ধিজীবী মহল
প্রতীকের ইস্তফায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বামপন্থী শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা। অভিনেত্রী উষসী চক্রবর্তী ফেসবুকে লিখেছেন, “আমাদের মতো কিছু বোকা মানুষের কাছে জয়-হারের চেয়ে শিরদাঁড়া সোজা রাখা বেশি জরুরি।” পরিচালক সৌরভ পালোধি প্রতীকের অভাব বোধ করবেন বলে জানিয়েছেন। অভিনেতা দেবদূত ঘোষের মতে, প্রতীক একজন লড়াকু নেতা, নৈতিক কারণেই হয়তো তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিবাদের মূলে কী?
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে মোহাম্মদ সেলিমের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ এবং দলের রণকৌশল বদল নিয়ে খুশি ছিলেন না প্রতীক। শতদ্রু ঘোষ যখন সেলিমের পক্ষ নিয়ে নৈতিকতার সঙ্গে আপসের কথা বলেছিলেন, তখন প্রতীক নাম না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, “নৈতিকতা ছাড়া সব হতে পারে, কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টি নয়।” স্পষ্টতই, বাম শিবিরের আদর্শগত সংঘাত এখন প্রকাশ্যে, যা ভোটের মুখে সিপিআইএমের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াল।