বেসরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকলে মিলবে না যুবসাথীর সুবিধা, তথ্য গোপনেই আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক পাশ ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী কর্মহীনরা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং বছরে মোট ১৮,০০০ টাকা ভাতা হিসেবে পাবেন। তবে সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতদের এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে অবশ্যই বর্তমানে সম্পূর্ণ বেকার হতে হবে।
প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বর্তমানে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থায় বেতনভোগী কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকেন, তবে তিনি এই ভাতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। তবে টিউশনি করেন এমন যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের আওতায় আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ঐক্যশ্রী বা মেধাশ্রীর মতো সরকারি স্কলারশিপ পেলেও যুবসাথীর সুবিধা মিলবে। উল্লেখ্য, এই সুবিধা প্রাথমিকভাবে ৫ বছরের জন্য দেওয়া হলেও, চাকরি না পেলে তা রিনিউ করার সুযোগ রয়েছে।
আবেদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফর্মের ‘সেল্ফ ডিকলারেশন’ বা স্বঘোষণা পত্রে আবেদনকারীকে নিশ্চিত করতে হবে যে তিনি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে কোনো কর্মসংস্থানে নিযুক্ত নেই। এছাড়া লক্ষ্মী ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপকরা এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
যদি কোনো বেসরকারি চাকরিজীবী তথ্য গোপন করে এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নথিপত্র বা তথ্যে কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়লে তৎক্ষণাৎ ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কর্মসংস্থান হলে তা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো আবেদনকারীর নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।