ভোটের আগে কোচবিহারে রণক্ষেত্র! একের পর এক বিজেপি নেতা গ্রেফতার ঘিরে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই কোচবিহার জেলা যেন এক রাজনৈতিক কুরুক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দিনহাটা ও সিতাই সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১১ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ধৃতদের মধ্যে ৯ জনের বিরুদ্ধেই এনডিপিএস (NDPS) বা মাদক পাচারের মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকে জেলায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে এই সমস্ত মামলাকে ‘সম্পূর্ণ সাজানো ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করা হয়েছে। সোমবার এই ইস্যুতে কোচবিহারের পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপি বিধায়করা এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানান।
বিজেপির গুরুতর অভিযোগ
বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামী সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশেই পুলিশ বিরোধীদের দমনে নেমেছে। তিনি দাবি করেন, সিতাই ও দিনহাটার বিজেপি মন্ডল সভাপতিদের পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। সম্প্রতি সুকুমার বর্মন, কৃষ্ণ মন্ডল এবং সুশান্ত দাসের মতো প্রথম সারির নেতাদের নিষিদ্ধ কফ সিরাপ ও মাদকদ্রব্য সহ গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। অথচ ধৃতদের পরিবারের দাবি, পুলিশ তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পরে মিথ্যে মামলা সাজিয়েছে।
পুলিশের অবস্থান ও পাল্টা যুক্তি
কোচবিহার জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, বিজেপি বিধায়কদের অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে কোনও রাজনৈতিক চাপের কথা অস্বীকার করেছে পুলিশ প্রশাসন। তাঁদের দাবি, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং মাদক সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পরেই গ্রেফতারি করা হয়েছে।
উত্তপ্ত কোচবিহারের রাজনীতি
নির্বাচনের ঠিক মুখে একের পর এক দলীয় পদাধিকারীর গ্রেফতারি কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে বিজেপি যখন ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’র অভিযোগে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযানের কথা বলে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। সিতাই ও দিনহাটার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে চাপা উত্তেজনা।