১৫০০ টাকার লাইনে পিএইচডিও! ৩৬ ঘণ্টায় সাড়ে ৬ লাখ আবেদন ঘিরে বাংলা উত্তাল

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন ‘যুব সাথী’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যে কার্যত হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে। আবেদনের পোর্টাল খোলার মাত্র দেড় দিনের মাথায় অর্থাৎ ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে রেকর্ড সংখ্যক ৬,৫৫,৮৯৩ জন বেকার যুবক-যুবতী এই ভাতার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। একদিকে যখন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই বিপুল সাড়াকে তাদের সাফল্যের খতিয়ান হিসেবে তুলে ধরছে, তখন অন্যদিকে বিরোধীরা একে রাজ্যের বেকারত্বের এক ‘ভয়াবহ দলিল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
আবেদনকারীর ভিড়ে শীর্ষে মুর্শিদাবাদ, চমক কলকাতায়
সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, জেলাগুলির মধ্যে আবেদনের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। এই জেলা থেকে একাই ৭৭,৭৯০ জন আবেদন করেছেন। এর ঠিক পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও জঙ্গলমহলের জেলাগুলি। খোদ কলকাতা থেকেও প্রায় ১৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক অন্য জায়গায়— সরকারিভাবে ১৫০০ টাকার মাসিক ভাতার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন শুধু মাধ্যমিক উত্তীর্ণরাই নন, বরং হাজার হাজার পোস্ট-গ্রাজুয়েট এবং পিএইচডি ডিগ্রিধারী উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতী। উচ্চশিক্ষিতদের এই ‘বেকার ভাতা’ পাওয়ার মরিয়া লড়াই নবান্নের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
এই বিপুল সংখ্যক আবেদনকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “বাংলার যুব সমাজ আজ ১৫০০ টাকার ভাতার জন্য বাধ্য হচ্ছে কারণ রাজ্যে কোনো শিল্প বা কর্মসংস্থান নেই। যোগ্যরা আজ পথে পথে ঘুরছে, আর অযোগ্যরা টাকার বিনিময়ে চাকরি পাচ্ছে।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্পকে ‘নির্বাচনী গিমিক’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
অন্যদিকে, পাল্টা তোপ দেগেছেন তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “বিজেপির কর্মসংস্থান নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার নেই। বছরে ২ কোটি চাকরির যে প্রতিশ্রুতি কেন্দ্র দিয়েছিল, তার কী হলো?” কুণাল ঘোষের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন অভিভাবকের মতো বেকার যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন যাতে তাঁরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার খরচটুকু নিজের পকেট থেকে চালাতে পারেন।
নির্বাচনের আগে ‘যুব সাথী’ কার্ড
সামনেই ভোট, তার আগে ‘যুব সাথী’ বনাম ‘বেকারত্ব’ ইস্যু এখন বাংলার অলিগলি থেকে সোশ্যাল মিডিয়া— সর্বত্র চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে ১৫০০ টাকার সরকারি সাহায্য, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে বিরোধীদের ধারালো আক্রমণ; সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে এখন তুঙ্গে ‘যুব সাথী’র আঁচ। এই প্রকল্প বেকারদের ভোট বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।