২০২৬ নির্বাচনে তৃণমূলকে জেতাতে ওপার বাংলা থেকে আসবে জামাত, শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি

নিউজ ডেস্ক
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে রাজনীতির পারদ। এবার ওপার বাংলার কট্টরপন্থী সংগঠন ‘জামাত’-কে জড়িয়ে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস ও ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ১৬ ফেব্রুয়ারি এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, আগামী নির্বাচনে তৃণমূলকে জেতাতে সীমান্ত পেরিয়ে সক্রিয় হবে জামাত।
শুভেন্দুর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় ছিল মূলত মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের প্রভাবশালী তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বিরোধী দলনেতার দাবি, ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত করতে ওপার বাংলার মৌলবাদী শক্তিগুলোকে ব্যবহার করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি সাফ জানান, “তৃণমূল এবং হুমায়ুন কবীরদের জেতাতে সাহায্য করবে ওপার বাংলার জামাতিরা।” তাঁর আরও আশঙ্কা, এই অশুভ আঁতাত সফল হলে বাংলা হিন্দুশূন্য হয়ে পড়ার উপক্রম হবে। সীমান্তবর্তি জেলাগুলোতে ভোটারদের মেরুকরণ করতেই এই বিদেশি শক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
নজরে মুর্শিদাবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা
বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ভিনদেশি কট্টরপন্থীদের মদতে নির্বাচন প্রভাবিত করার এই চেষ্টা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বার্থে এখনই কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব
শুভেন্দুর এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘হতাশা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল শিবির। শাসকদলের পাল্ট দাবি, বিজেপির কাছে কোনো উন্নয়নের এজেন্ডা নেই বলেই তারা বারবার সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও মেরুকরণের রাজনীতি করছে। খোদ হুমায়ুন কবীরও এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন, বিতর্কিত মন্তব্য করেই শুভেন্দু অধিকারী রাজনীতিতে টিকে থাকতে চাইছেন।
২০২৬ নির্বাচনের আগে শুভেন্দুর এই ‘জামাত কার্ড’ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইস্যুটি নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এল।