আধুনিক প্রেমের সংজ্ঞা শুনে সুপ্রিম কোর্টে হাসির রোল! আমরা সত্যিই সেকেলে স্বীকারোক্তি বিচারপতিদের

দেশের সর্বোচ্চ আদালত চত্বরে সাধারণত গম্ভীর পরিবেশই বজায় থাকে। কিন্তু সোমবার সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে বয়ে গেল হাসির হাওয়া। আধুনিক প্রজন্মের প্রেমের ধরন এবং সম্পর্কের সমীকরণ শুনে কার্যত থমকে গেলেন খোদ বিচারপতিরা। বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও শারীরিক সম্পর্কের একটি জটিল মামলার শুনানি চলাকালীন বর্তমান সমাজের দ্রুত বদলে যাওয়া নৈতিকতা দেখে বিচারপতিরা অকপটে স্বীকার করলেন, “আমরা সত্যিই বড্ড সেকেলে হয়ে পড়েছি!”
কী ঘটেছিল আদালত কক্ষে?
এদিন শুনানির সময় জনৈক আইনজীবীর সওয়াল শুনে রীতিমতো বিস্মিত হন বেঞ্চের সদস্যরা। আইনজীবী যুক্তি দেন যে, বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক এখন আর কোনও সামাজিক ট্যাবুর বিষয় নয়। বরং এটি পারস্পরিক সম্মতি এবং একে অপরকে চিনে নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আধুনিক শহুরে যুবক-যুবতীদের কাছে লিভ-ইন রিলেশনশিপ বা বিয়ের আগে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা জীবনযাত্রার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনজীবীর এই ব্যাখ্যা শোনার পর বিচারপতিরা কিছুক্ষণ নীরব থাকেন। নিজেদের সময়ের সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে বর্তমান সময়ের এই বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করে তারা কিছুটা কৌতুকের ছলে নিজেদের ‘পুরানো আমলের’ বা ‘সেকেলে’ বলে অভিহিত করেন। বিচারপতিদের এই স্বতঃস্ফূর্ত এবং রসিকতাপূর্ণ মন্তব্য আদালত কক্ষে এক হালকা মেজাজ তৈরি করে।
আইনের চোখে সামাজিক বিবর্তন
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারপতিদের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও কথাটি মজার ছলে বলা হয়েছে, কিন্তু এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক বড় সত্য। এটি প্রমাণ করে যে ভারতের বিচারব্যবস্থা সমাজের দ্রুত পরিবর্তনশীল মানসিকতা সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে তথাকথিত নৈতিকতার সংজ্ঞা যে আমূল বদলে গেছে, শীর্ষ আদালত তা মেনে নিতে দ্বিধা করছে না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল বিচারপতিদের সরলতা
আদালতের এই কথোপকথন প্রকাশ্যে আসতেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনদের বড় অংশ বিচারপতিদের এই খোলামেলা মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। সাধারণ মানুষের মতে, আইন যখন বাস্তবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে, তখনই তা প্রকৃত অর্থে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
সমাজের চিরাচরিত ধ্যান-ধারণার বাইরে বেরিয়ে এসে আধুনিক জীবনের বাস্তবতা স্বীকার করে নেওয়ার এই ঘটনা বিচারবিভাগের ইতিহাসে এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে। এর ফলে আগামী দিনে আধুনিক সম্পর্কের আইনি ব্যাখ্যায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।