৩০ দিনে গ্রেপ্তার ৯ বিজেপি কর্মী, কোচবিহারে তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম ‘হটস্পট’ কোচবিহারে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। গত এক মাসে ৯ জন বিজেপি নেতা ও কর্মীর গ্রেপ্তারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও গেরুয়া শিবিরের মধ্যে সংঘাত এখন চরমে। বিজেপির অভিযোগ, শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মীদের ওপর ‘মিথ্যা মামলা’ সাজিয়ে গ্রেপ্তার করছে।
পুলিশ সুপারের দপ্তরে বিজেপি বিধায়কদের হুঙ্কার
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে কোচবিহারের বিজেপি বিধায়কদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা পুলিশ সুপারের (SP) সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল করে দিতেই মাঠ পর্যায়ের সক্রিয় কর্মীদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। বিধায়কদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে এই ‘একতরফা’ গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিটি এফআইআর-এর নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
প্রশাসনের পাল্টা যুক্তি
বিজেপি প্রতিনিধি দলের অভিযোগ শুনলেও নতিস্বীকার করতে নারাজ পুলিশ প্রশাসন। ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইনের চোখে সবাই সমান এবং এখানে কোনো রাজনৈতিক রং দেখে কাজ করা হচ্ছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে জেলা পুলিশ। তবে বিজেপির তোলা অভিযোগগুলো আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উত্তপ্ত কোচবিহার এবং তৃণমূলের অবস্থান
কোচবিহারের রাজনৈতিক ইতিহাস বরাবরই সংঘাতময়। মাত্র ৩০ দিনের ব্যবধানে দলের ৯ জন সদস্য শ্রীঘরে যাওয়ায় জেলাজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে বিজেপি। একদিকে যখন বিজেপি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড়সড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই বিতর্ক থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্পূর্ণ প্রশাসনের কাজ, এতে দলের কোনো ভূমিকা নেই।
আগামী দিনে কী হতে চলেছে?
গ্রেপ্তারকৃত কর্মীদের দ্রুত মুক্তি না দিলে এবং পুলিশের এই ‘হয়রানি’ বন্ধ না হলে কোচবিহারে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, পুলিশি ধরপাকড় অব্যাহত থাকায় জেলায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে কোচবিহারের এই অস্থিরতা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।