অস্ত্রের বিনিময়ে খনিজ তেল: মুসলিম দেশ আজারবাইজানের সঙ্গে ইজরায়েলের গোপন সমীকরণ

গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যখন মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ইজরায়েলের কড়া সমালোচনায় মুখর, তখন এক ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যাচ্ছে ককেশাস অঞ্চলের মুসলিম প্রধান দেশ আজারবাইজানে। তেল আবিব ও বাকুর এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। মূলত সামরিক প্রযুক্তি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ রূপ নিয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে ইজরায়েলের খনিজ তেলের চাহিদার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ সরবরাহ করে আজারবাইজান। বিপরীতে, বাকু তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইজরায়েলের কাছ থেকে সংগ্রহ করছে অত্যাধুনিক ড্রোন ও সমরাস্ত্র। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আজারবাইজানের আমদানিকৃত অস্ত্রের ৬০ শতাংশই ছিল ইজরায়েলি। ধর্মীয় বা জাতিগত মিল না থাকলেও লিকুইড গোল্ড বা খনিজ তেলের বিনিময়ে এই অস্ত্র কূটনীতি দুই রাষ্ট্রকে একে অপরের অপরিহার্য বন্ধুতে পরিণত করেছে।
তবে এই মিত্রতা ভারতের জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। আজারবাইজান দীর্ঘদিন ধরেই কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অন্ধ সমর্থক। অন্যদিকে, ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও কৌশলগত কারণে নয়াদিল্লি এখন আর্মেনিয়াকে উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করছে। তুরস্ক, পাকিস্তান এবং আজারবাইজান—এই ত্রিভুজ অক্ষের বিপরীতে ইজরায়েলের অবস্থান ভবিষ্যতে ককেশাস অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।