পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যসভার দুই আসনে ছয় বছরে ছয় সাংসদ, নজিরবিহীন পালাবদল তৃণমূল শিবিরে

পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যসভার দুই আসনে ছয় বছরে ছয় সাংসদ, নজিরবিহীন পালাবদল তৃণমূল শিবিরে

পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যসভার সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজনৈতিক মহল। গত ছয় বছরে রাজ্যের দুটি নির্দিষ্ট আসন থেকে ছয়জন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন, যা ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে বিরল। আগামী এপ্রিলে রাজ্যের পাঁচটি আসন খালি হতে চলেছে, যার মধ্যে এই দুটি বিতর্কিত আসনও রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— ওই আসনগুলোতে বর্তমান সাংসদদেরই পুনরায় পাঠানো হবে, নাকি ফের নতুন কোনো মুখ দেখা যাবে।

প্রথম আসনটিতে গত কয়েক বছরে পর্যায়ক্রমে সাংসদ হয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী, জহর সরকার এবং বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দীনেশ ত্রিবেদী ইস্তফা দিলে সেখানে প্রাক্তন আমলা জহর সরকারকে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে আরজি কর আবহে জহর সরকার পদত্যাগ করলে সেই শূন্যস্থানে আসেন ঋতব্রত। অন্যদিকে, দ্বিতীয় আসনটিতে নাট্যকর্মী অর্পিতা ঘোষের ইস্তফার পর গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরোকে আনা হয়েছিল। কিন্তু তিনিও পদত্যাগ করায় বর্তমানে সেখানে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট সাকেত গোখলে।

এই ঘনঘন রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। বর্তমান দুই সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাকেত গোখলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। ঋতব্রত সংসদে সক্রিয় থাকলেও সাকেত গোখলেকে নিয়ে আইনি মানহানি মামলার বিতর্ক রয়েছে। দলের একাংশ ঋতব্রতকে রাজ্য রাজনীতিতে ফিরিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে ব্যবহারের পক্ষপাতী। শেষ পর্যন্ত কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিট এই আসন দুটিতে স্থায়িত্ব ফেরাতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *