হারানো সোনার বিমার টাকা দিতে অস্বীকার, আদালতের নির্দেশে ৪৩ লক্ষ টাকা পাচ্ছেন দিল্লির গ্রাহক

হারানো সোনার বিমার টাকা দিতে অস্বীকার, আদালতের নির্দেশে ৪৩ লক্ষ টাকা পাচ্ছেন দিল্লির গ্রাহক

দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি লড়াই শেষে এক ঐতিহাসিক জয় পেলেন দিল্লির বাসিন্দা প্রবীণ শর্মা। ২০১০ সালে হারিয়ে যাওয়া ১৮ লক্ষ টাকার সোনার গয়নার বিপরীতে বিমা সংস্থা থেকে ৪৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন। বিমা সংস্থার টালবাহানা ও গ্রাহকের অবহেলার অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে আদালত সাফ জানিয়েছে, যথাযথ প্রমাণ ছাড়া বিমার দাবি প্রত্যাখ্যান করা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালের এক জানুয়ারিতে, যখন চাঁদনী চকে গয়না বিক্রি করতে যাওয়ার পথে প্রবীণ শর্মার পকেট থেকে একটি ছোট থলিতে থাকা গয়না রাস্তায় পড়ে যায়। থানায় অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি তিনি বিমা সংস্থাকেও বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু বিমা সংস্থা দাবি করে, বিমা করার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় এই ঘটনা ঘটায় বিষয়টি সন্দেহজনক এবং গ্রাহকের অসাবধানতার কারণে তারা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয়। এরপরই ন্যায়বিচারের আশায় ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হয় ভুক্তভোগী পরিবারটি।

দীর্ঘ ১২ বছর জেলা ও রাজ্য কমিশনে মামলা চলার পর আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, বিমা করার সময় সংস্থাটি সমস্ত গয়না এবং নথিপত্র মূল্যায়ন করেই পলিসি অনুমোদন করেছিল। তাই পরবর্তীতে গয়নার অস্তিত্ব বা মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক। আদালত বিমা সংস্থাকে ১৭.৭৫ লক্ষ টাকা মূলধনের ওপর ৯ শতাংশ বার্ষিক সুদসহ মোট ৪২.৯২ লক্ষ টাকা এবং হয়রানির জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা প্রদানের নির্দেশ দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এক বড় জয়। সোনা বা মূল্যবান সম্পদের বিমা করার ক্ষেত্রে সঠিক মূল্যায়ন রিপোর্ট এবং পলিসির শর্তাবলী যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। এই মামলাটি প্রমাণ করল যে, দুর্ঘটনাজনিত বা অসাবধানতাবশত ক্ষতির ক্ষেত্রেও বিমা সংস্থাগুলো কেবল অনুমানের ভিত্তিতে গ্রাহকের দাবি অস্বীকার করতে পারে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *