ইরানে ইজরায়েলি হামলায় শর্তসাপেক্ষে সমর্থনের আশ্বাস ট্রাম্পের, তুঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা

ইরানে ইজরায়েলি হামলায় শর্তসাপেক্ষে সমর্থনের আশ্বাস ট্রাম্পের, তুঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা

তেহরান যদি মার্কিন পরমাণু চুক্তি অমান্য করে, তবে ইরানের ওপর ইজরায়েলি হামলাকে সমর্থন জানাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিস্ফোরক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, গত বছরের ডিসেম্বরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ব্যক্তিগতভাবে এই আশ্বাস দিয়েছেন ট্রাম্প। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে পূর্ববর্তী যুদ্ধের রেশ ধরে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে এই কৌশলগত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। নতুন করে হামলা হলে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি আদায়ে আমেরিকা সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে বলেও জানা গেছে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত করে ইতিমধ্যেই ইরানের দিকে রওনা হয়েছে মার্কিন রণতরী। পেন্টাগন সূত্রে খবর, বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এবং ৭৫০০ সেনাসমৃদ্ধ কেরিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের প্রাক্তন সহকারী সচিব সেলেস্টি এ ওয়াল্যান্ডার জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে সরাসরি সামরিক পথে হাঁটতে দ্বিধা করবে না ওয়াশিংটন। সে লক্ষ্যেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে এবং সামরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি করতে রণকৌশল সাজাচ্ছে আমেরিকা।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে ইরানের সরকার-বিরোধী বিদ্রোহীদের মৃত্যুদণ্ড রদ করার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হবে বলে মনে করা হলেও, বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। একাধিক প্রতিবেশী দেশ ইরানের ওপর হামলার জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, আমেরিকা ও ইজরায়েল তাদের অবস্থান কঠোর করছে। পেন্টাগনের এই বিশাল নৌবহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত এবং ট্রাম্পের প্রকাশ্য আশ্বাস প্রমাণ করছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় যে কোনো মুহূর্তে রণদামামা বেজে উঠতে পারে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *