বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’: আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রেক্ষাপটে শানিত প্রেম ও শৈল্পিক অ্যাকশনের কোলাজ

মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্ধকার ইতিহাস এবং কুখ্যাত ‘স্বপ্না দিদি’র প্রতিশোধের আখ্যানকে উপজীব্য করে বিশাল ভরদ্বাজ নির্মাণ করেছেন তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘ও রোমিও’। এস হুসেন জাইদি ও জেন বর্জেসের ‘মাফিয়া কুইনস’ বইয়ের ছায়া অবলম্বনে তৈরি এই ছবিতে ডন হুসেন উস্তারার চরিত্রে শাহিদ কাপুর এবং আসফা খুরেশির ভূমিকায় তৃপ্তি দিমরি অভিনয় করেছেন। দাউদ ইব্রাহিমের হাতে স্বামী মেহমুদ খানকে হারানোর পর স্বপ্না দিদির যে অদম্য জেদ ও ডনকে খতম করার ছক, তাকেই এক নতুন শৈল্পিক আঙ্গিকে বড় পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক।
ছবিটিতে নয়ের দশকের বলিউডের সঙ্গে অপরাধ জগতের গভীর সংযোগ, ক্রিকেট বেটিং এবং তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপট নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। বিশাল ভরদ্বাজ এখানে চিরাচরিত ভায়োলেন্সের বদলে অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে এক প্রকার ‘নৃত্যনাট্য’ বা কোরিওগ্রাফির পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। বিশেষ করে সিনেমা হলের ভেতর ‘ধক ধক’ গানের তালে রণকৌশল কিংবা স্পেনের বুল ফাইটার এরিনাতে লড়াইয়ের দৃশ্যগুলো দর্শককে গ্ল্যাডিয়েটর বা মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথের কথা মনে করিয়ে দেয়। শাহিদ কাপুর তাঁর ‘উস্তারা’ বা রেজরের মতোই ধারালো ও শারীরিক অভিনয়ে মুগ্ধ করেছেন।
তবে শৈল্পিক উৎকর্ষ থাকা সত্ত্বেও গল্পের মূল কেন্দ্রে থাকা নারী চরিত্রের লড়াই কিছুটা ম্লান হয়েছে বলে মনে করেন সমালোচকরা। আসফার চরিত্রে তৃপ্তি দিমরিকে বেশ কোমলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা হয়তো শাহিদের ‘রোমিও’ সত্তাকে ফুটিয়ে তোলার জন্যই করা। শেষ পর্যন্ত এটি স্বপ্না দিদির প্রতিরোধের গল্পের চেয়ে হুসেন উস্তারার প্রেম ও বীরত্বের উদযাপন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টাইল এবং মেকিংয়ে ছবিটি অনন্য হলেও, এক শক্তিশালী নারীর লড়াইয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্রায়ণ এখানে পুরুষতান্ত্রিক নায়কতন্ত্রের ভিড়ে কিছুটা অপূর্ণ থেকে গিয়েছে।