ভোটের আগে আসামে ঘরোয়া কোন্দলে জর্জরিত কংগ্রেস, দল ছাড়লেন তিনবারের বিধায়ক

আসামে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়েছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে ডামাডোল পরিস্থিতির মধ্যেই দল ছাড়লেন গোয়ালপাড়া পশ্চিমের তিনবারের বিধায়ক রশিদ মণ্ডল। সোমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তি ‘রাইজোর দল’-এ যোগদান করেন। শিবসাগরের বিধায়ক তথা রাইজোর দলের প্রধান অখিল গগৈ তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। দলত্যাগের পর রশিদ মণ্ডল জানান, বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী অখিল গগৈয়ের নেতৃত্বে কাজ করতে তিনি আগ্রহী এবং কংগ্রেসের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ নেই।
রশিদ মণ্ডলের যোগদানের পরেই রাইজোর দলের শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছেন অখিল গগৈ। তিনি দাবি করেছেন, মঙ্গলবার বাঘবরের প্রভাবশালী কংগ্রেস বিধায়ক শরমন আলি আহমেদও তাঁদের দলে যোগ দিতে পারেন। এর ফলে বিধানসভায় রাইজোর দলের বিধায়ক সংখ্যা এক থেকে বেড়ে তিনে দাঁড়াবে। অখিল গগৈ আরও জানান, এবারের নির্বাচনে অন্তত ১৫টি আসনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে তাঁর দল এবং আগামীতে আসামে সরকার গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন বরার পদত্যাগ ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। ভূপেন বরার দাবি, তিনি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। যদিও দলের কেন্দ্রীয় নেতা জিতেন্দ্র সিং দাবি করেছেন, ভূপেন পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই ডামাডোলের সুযোগ নিয়ে ময়দানে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ভূপেন বরার বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা উসকে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে আসামের রাজনীতিতে কংগ্রেস এখন বেশ রক্ষণাত্মক অবস্থানে।