পাকিস্তানের প্রতিটি চাল যেখানে মাপা হয় সেখানে হঠাৎ মার্কিন রাষ্ট্রদূত! কেন এই সফর ঘিরে কাঁপছে ইসলামাবাদ
ভারতীয় সেনার পশ্চিম কমান্ড বা ‘ওয়েস্টার্ন কমান্ড’—যা পাকিস্তানের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্ক। ঠিক যেখান থেকে সীমান্ত পারের প্রতিটি গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজর রাখা হয়, সেখানেই হঠাৎ হাজির হলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এবং ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল জে প্যাপারো। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সার্জিও গোরের এই ঝটিকা সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।
কেন এই সফরের গুরুত্ব অপরিসীম
ভারতের চণ্ডীগড়ের কাছে অবস্থিত এই পশ্চিম কমান্ডকে দেশের নিরাপত্তার ‘স্টিল শিল্ড’ বা ইস্পাত বর্ম বলা হয়। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি এবং জম্মুর একাংশের নিরাপত্তার দায়িত্ব এই কমান্ডের কাঁধেই। সফরের সময় মার্কিন প্রতিনিধি দল লেফট্যানেন্ট জেনারেল মনোজ কুমার কাটিয়ারের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। পশ্চিম সীমান্তের স্ট্র্যাটেজিক সিকিউরিটি ডায়নামিক্স এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
পাকিস্তানের ভয়ের আসল কারণ
ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৬৫ এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধে এই পশ্চিম কমান্ডই পাকিস্তানের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছিল। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিন্ধুর’ মাধ্যমে যেভাবে পাকিস্তানি বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করা হয়েছিল, তা আজও ইসলামাবাদের ঘুম কেড়ে নেয়। সেই স্পর্শকাতর এবং রণকৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তরে মার্কিন দূতের পদার্পণ আদতে একটি শক্তিশালী ‘কূটনৈতিক বার্তা’।
ভারত ও আমেরিকার নতুন সমীকরণ
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ সার্জিও গোরের এই সফর কেবল একটি সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। এটি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তিকে আমেরিকার স্বীকৃতি দেওয়ারই নামান্তর। দুই দেশের সেনার মধ্যে রণকৌশলগত বোঝাপড়া যে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, এই সফর তারই প্রমাণ। পাকিস্তানের সীমানার এত কাছে বসে মার্কিন আধিকারিকদের এই রণকৌশল নিয়ে আলোচনা নিশ্চিতভাবেই ভারতের পশ্চিম প্রান্তের নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করবে।