খুলে গেল ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বাজার! আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে বড় চুক্তিতে কপাল খুলছে ভারতীয় কৃষকদের

খুলে গেল ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বাজার! আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে বড় চুক্তিতে কপাল খুলছে ভারতীয় কৃষকদের

ভারত ও শক্তিশালী রাষ্ট্রপুঞ্জগুলোর মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক চুক্তি দেশের কৃষি ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মতে, আমেরিকা (US) এবং ২৭টি দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সঙ্গে এই চুক্তির ফলে ভারতীয় কৃষি পণ্যের সামনে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল এক বাজার উন্মুক্ত হয়েছে।

রপ্তানির নয়া দিগন্ত ও ব্যাপক লাভ

বাণিজ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকার বাজারে বর্তমানে ভারতের কৃষি রপ্তানির পরিমাণ ২.৮ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আমদানির পরিমাণ মাত্র ১.৫ বিলিয়ন ডলার। সামগ্রিকভাবে ভারতের কৃষি রপ্তানি ৫১-৫২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং তা ক্রমাগত বাড়ছে।

বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সামুদ্রিক খাবার, কফি, চা এবং মশলার চাহিদা আকাশচুম্বী। তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের মধ্যে সামুদ্রিক পণ্যের রপ্তানি ৬৩২ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৯৮২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। একইভাবে চা, কফি এবং মশলার রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোন কোন পণ্যে মিলবে বিশেষ সুবিধা?

এই চুক্তির ফলে ভারতীয় কৃষকরা ১৮ শতাংশ ট্যারিফ ব্র্যাকেট এবং জিরো ট্যারিফ বা শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে:

  • শুল্কমুক্ত পণ্য: সব ধরণের মশলা, চা, কফি, নারকেল ও নারকেল তেল, সুপারি, কাজু বাদাম।
  • ফল ও সবজি: আম, পেয়ারা, কলা, কিউই, পেঁপে, আনারস এবং বিশেষ ধরণের মাশরুম।
  • শস্য: বার্লি এবং ক্যানারি সিডসের মতো দানা শস্য।

কৃষকদের সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রভাব

চুক্তিতে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায়। ভারত সরকার ডেইরি (দুগ্ধজাত পণ্য), পোল্ট্রি, মাংস এবং বিশেষ কিছু খাদ্যশস্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় দেয়নি, যাতে দেশীয় বাজার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। পাশাপাশি জিএম (জেনেটিক্যালি মডিফাইড) ফসল, সয়াবিন ও ভুট্টার আমদানিও নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে (Global Supply Chain) ভারত আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। রপ্তানি বাড়লে সরাসরি কৃষকদের আয় বাড়বে এবং কৃষি ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের পথ আরও প্রশস্ত হবে। যা শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এক নতুন গতি দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *