আমেরিকার দাবিতে চাঞ্চল্য! রুশ তেল নিয়ে জয়শঙ্করের পাল্টা জবাবে সরগরম বিশ্ব রাজনীতি

নয়াদিল্লি
রাশিয়া থেকে কি আর অপরিশোধিত তেল কিনবে না ভারত? মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক এক দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে রুবিও দাবি করেছেন, ভারত নাকি রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত তেল না কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই দাবি কি আদেও সত্যি? ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাফ জবাব অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমেরিকার দাবি বনাম ভারতের অবস্থান
ফেব্রুয়ারির শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করেন, তখনই তিনি দাবি করেছিলেন যে ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। মিউনিখ সম্মেলনে সেই সুরেই রুবিও বলেন, “ভারত আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে তারা আর রুশ তেল কিনবে না।”
তবে জয়শঙ্কর এই সম্মেলনে ভারতের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বা স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি-র ওপর জোর দিয়েছেন। মার্কিন চাপের মুখেও তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের জ্বালানি নীতি পরিচালিত হয় জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতের তেল কো ম্পা নিগুলোও প্রাপ্যতা, খরচ এবং ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে নিজেদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেয়।” অর্থাৎ, আমেরিকা প্রতিশ্রুতি পাওয়ার দাবি করলেও ভারত পরোক্ষভাবে জানিয়ে দিল, নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে তারা পিছপা হবে না।
বাণিজ্যিক সমীকরণ ও আমদানি-রপ্তানির চিত্র
উল্লেখ্য, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে ভারতের ওপর যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা, ট্রাম্প তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবর্ষে রাশিয়া থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। বিপরীতে চীন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং খোদ আমেরিকা থেকে আমদানি বেড়েছে।
রপ্তানিতে ধাক্কা ও সোনার দাপট
বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানে আরও কিছু উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গত জানুয়ারি মাসে আমেরিকায় ভারতের রপ্তানি প্রায় ২১.৭৭ শতাংশ কমেছে। এর মূল কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের চাপানো উচ্চ শুল্ক। অন্যদিকে, ভারতে সোনা ও রূপোর আমদানিতে রেকর্ড উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসেই সোনার আমদানি বেড়েছে ৩৪৯ শতাংশেরও বেশি।
আমেরিকার দাবি এবং ভারতের অনড় অবস্থানের এই টানাপোড়েন আগামী দিনে বিশ্ব তেল বাজারে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।