তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ ঘিরে আওয়ামী লীগে অভিনন্দন-বিতর্ক

বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার ঢাকায় আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে ভারত ও পাকিস্তানসহ ১৩টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশ এবং জামায়াতে ইসলামীসহ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলগুলো তাকে অভিনন্দন জানালেও নীরব রয়েছে আওয়ামী লীগ। ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা নিজেকে আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচয় না দিলেও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো নিয়ে দলে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের একাংশের মতে, এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দেওয়ার পর বিজয়ী ব্যক্তিকে অভিনন্দন জানানো হবে অনৈতিক। তবে অন্য অংশ মনে করছে, রাজনৈতিক সৌজন্য ও দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সম্প্রতি দলীয় নথিপত্রে নিজের নামের আগে ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদবি ব্যবহার বন্ধ করেছেন। বিএনপি নেতারাও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ কার্যালয় খুলে দিয়ে রাজনৈতিক সহাবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
বিগত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করা আওয়ামী লীগ এখন দ্বিমুখী সংকটে। একদিকে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে নতুন সরকারের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা—এই দুই মেরুর টানাপোড়েনে দলটির হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত এখন আলোচনার কেন্দ্রে। শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির গড়বেন কি না, তা নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।