ড্রোনের পর এবার সিসিটিভি পাহারা! পুরুলিয়ার জঙ্গলে গজরাজ রুখতে বনদপ্তরের মাস্টারপ্ল্যান

ঝালদা: পুরুলিয়ার বিস্তীর্ণ বনভূমিজুড়ে এখন শুধুই গজরাজের রাজকীয় বিচরণ। কিন্তু এই রাজকীয় মেজাজ মাঝেমধ্যেই হয়ে উঠছে মারণ-লীলা। ঝাড়খণ্ড সীমান্ত পেরিয়ে আসা হাতির পালের তান্ডবে অকালেই ঝরে যাচ্ছে একের পর এক প্রাণ। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রাণহানি রুখতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে বনদপ্তর। ড্রোনের নজরদারির পর এবার জঙ্গলমহলে বসছে হাই-টেক সিসিটিভি ক্যামেরা।
স্মার্ট নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তি
বনদপ্তর সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ড সীমান্ত সংলগ্ন ঝালদা, বাঘমুণ্ডি, অযোধ্যা এবং মাঠা রেঞ্জের অন্তত ২৫টি সংবেদনশীল পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। জঙ্গলঘেরা এই এলাকাগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে গভীর জঙ্গলে বিদ্যুৎ সংযোগ এক বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাধা কাটাতে যেখানে সাধারণ বিদ্যুৎ নেই, সেখানে ব্যবহার করা হবে সৌরশক্তি চালিত ক্যামেরা। এছাড়া গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা হাতিদের খুঁজে বের করতে সাধারণ ড্রোনের বদলে আনা হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘থার্মাল ড্রোন ক্যামেরা’।
সরাসরি রেঞ্জ অফিসারের মোবাইলে অ্যালার্ট
এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর কানেক্টিভিটি। সুবর্ণরেখা নদী সংলগ্ন রাঙামাটি, মারচা বা আটনার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় বসানো ক্যামেরাগুলি সরাসরি যুক্ত থাকবে রেঞ্জ অফিসারদের মোবাইল ফোনের সঙ্গে। জঙ্গলের ভেতরে হাতির গতিবিধি ক্যামেরায় ধরা পড়লেই তাৎক্ষণিক সংকেত চলে যাবে আধিকারিকদের কাছে। এরপর দ্রুততার সঙ্গে স্থানীয় গ্রাম প্রধান ও সদস্যদের সতর্ক করা হবে, যাতে লোকালয়ে হাতি ঢোকার আগেই গ্রামবাসীরা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পান।
কেন এই কড়া ব্যবস্থা?
সম্প্রতি বাঘমুণ্ডির বৃদ্ধ গুরুচরণ সিং মুড়ার মৃত্যু বনদপ্তরকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। দলমা রেঞ্জ থেকে আসা দলছুট হাতির হানায় গত কয়েক মাসে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত গুরুচরণ বাবুর বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর ডিএফও অঞ্জন গুহ এই সিসিটিভি প্রকল্পের ওপর বিশেষ জোর দেন।
পুরুলিয়ার ডিএফও অঞ্জন গুহ জানান, “আমরা রিয়েল টাইমে হাতির অবস্থান জানতে এই প্রযুক্তিগত সাহায্য নিচ্ছি। এর ফলে দ্রুত খবর পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে এবং অকাল মৃত্যু অনেকটাই রোধ করা যাবে।” ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুর্গম এলাকাগুলিতে লাইন পৌঁছে দেওয়ার কাজ ত্বরান্বিত করার আর্জি জানিয়েছে বনদপ্তর।