বাংলায় কমিশনের তুঘলকি কাণ্ড! মোদির আবাস যোজনা থেকে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট সব নথিই হচ্ছে খারিজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের একের পর এক সিদ্ধান্তে চরম বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। গত বছর ২৭ অক্টোবর কমিশন নিজেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল যে সরকার অনুমোদিত বাড়ি বা জমির শংসাপত্র গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু এখন শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার মুখে এসে অবস্থান বদলাল কমিশন। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ইন্দিরা আবাস যোজনা কিংবা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কোনও নথিই আর গ্রাহ্য হবে না। কমিশনের এই ‘তুঘলকি’ সিদ্ধান্তে কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকা নিয়ে বড়সড় সংশয় দেখা দিয়েছে।
শুধু আবাসের নথিই নয়, ভোটারদের জমা দেওয়া ডোমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম জটিলতা। স্ক্রুটিনি পর্বে এসে এখন বহু ভোটারের জমা দেওয়া এই স্থায়ী বাসস্থানের শংসাপত্র বাতিল করে দিচ্ছে কমিশন। অথচ শুনানির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এই নথিগুলি গ্রহণ করেছিলেন। মাঝপথে নিয়ম বদলের এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল গত ২১ জানুয়ারি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর সোমবার কমিশন পাল্টা চিঠিতে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু নথিই গ্রহণযোগ্য। সেখানে যেহেতু আবাস যোজনার আর্থিক অনুমোদনের কথা আলাদা করে উল্লেখ নেই, তাই ওই নথি বাতিল করা হচ্ছে।
কমিশনের এই পদক্ষেপের পরেই কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন একজোট হয়ে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যদি এই নথিগুলি অকেজোই ছিল, তবে এক মাস ধরে কেন নাটক করল কমিশন? দেশের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে বাংলার ক্ষেত্রে কেন আলাদা নিয়ম কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে।