অনুপ্রবেশ নিয়ে অমিত শাহের মন্ত্রকের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি! মোদি-শাহের দাবি কি তবে কেবলই নির্বাচনী জুমলা

অনুপ্রবেশ নিয়ে অমিত শাহের মন্ত্রকের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি! মোদি-শাহের দাবি কি তবে কেবলই নির্বাচনী জুমলা

নয়াদিল্লি: ভোট এলেই দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায় ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে। জনসভা থেকে সোশ্যাল মিডিয়া— সর্বত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখে শোনা যায় কোটি কোটি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর তত্ত্ব। আসামে গিয়েও শাহ দাবি করেছিলেন ৬৪ লক্ষ অনুপ্রবেশকারীর কথা। কিন্তু বাস্তবে কি সত্যিই কোনো তথ্য আছে সরকারের কাছে? সম্প্রতি একটি আরটিআই (RTI) আবেদনের উত্তরে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে কার্যত মুখ পুড়ল কেন্দ্রের।

তথ্য নেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছেই

জনৈক আরটিআই কর্মী কানহাইয়া কুমার জানতে চেয়েছিলেন, গত ১০ বছরে দেশে কতজন অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমানে ভারতে কোন দেশের কত অনুপ্রবেশকারী রয়েছে বা কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে, তার কোনো কেন্দ্রীভূত তথ্য (Centralized Data) সরকারের কাছে নেই। অর্থাৎ, যে ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিজেপি নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়, সেই সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানই নেই খোদ অমিত শাহের দপ্তরের কাছে।

রাজ্যের ঘাড়েই দায় চাপাল কেন্দ্র

অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও তাদের প্রত্যর্পণের যাবতীয় দায় রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ওপর ঠেলে দিয়েছে কেন্দ্র। অথচ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার দাবি করেন, অনুপ্রবেশের কারণেই দেশে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, যদি কোনো সরকারি তথ্যই না থাকে, তবে জনসভায় কোটি কোটি অনুপ্রবেশকারীর দাবি কোনভিত্তিতে করেন মোদি-শাহ? এটি কি শুধুই সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের কৌশল?

বিস্মিত সমাজকর্মীরা

বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত বিচিত্র’ বলে অভিহিত করেছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী হর্ষ মন্দার। তাঁর মতে, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো যেমন রাজ্যের থেকে খুনের তথ্য সংগ্রহ করে পরিসংখ্যান দেয়, অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রেও কেন্দ্র কেন সেই তথ্য রাখছে না তা রহস্যজনক। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো সঠিক পরিসংখ্যান ছাড়া একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে যখন অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেগে দেওয়া হয়, তখন বুঝতে হবে এর পিছনে প্রশাসনিক নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য রয়েছে।

সব মিলিয়ে, আরটিআই-এর এই রিপোর্ট ফাঁস হওয়ার পর মোদি সরকারের ‘অনুপ্রবেশ’ বিরোধী প্রচার যে বড়সড় ধাক্কা খেল, তা বলাই বাহুল্য। তথ্যের অভাব কি তবে প্রমাণ করে দিচ্ছে যে সবটাই ছিল ভোটের জন্য সাজানো ‘জুমলা’? রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *