হাসিনা ইস্যু ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে বাধা হবে না, আশাবাদী বিএনপি

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টি বৃহত্তর পরিসরে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো অন্তরায় সৃষ্টি করবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের নতুন শাসকদল বিএনপি। মঙ্গলবার তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রাক্কালে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে হস্তান্তরের জনদাবি থাকলেও, এই একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের বাণিজ্য ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক সহযোগিতা থমকে থাকবে না।
মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে চায় নতুন সরকার। বিশেষ করে আগামী এক বছরের মধ্যে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি ও ফরাক্কা বাঁধ ইস্যুসহ সীমান্ত সমস্যা নিয়ে দিল্লির সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। যারা ভারতের সঙ্গে সংঘাতের কথা বলেন, তাঁদের মন্তব্যকে বাস্তবসম্মত নয় বলে অভিহিত করে তিনি দুই দেশের মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন।
উন্নয়ন ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চায় বিএনপি নেতৃত্ব। মির্জা ফখরুলের মতে, আমেরিকা ও চিনের মতো দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তারা যেমন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে কাজ করে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককেও সেই একই মডেলে এগিয়ে নেওয়া উচিত। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হবে।