সুদানের জনবহুল বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা, নারী ও শিশুসহ ঝরল ২৮টি তাজা প্রাণ
সুদানে থামছেই না রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ। ক্ষমতার লড়াইয়ে এবার উত্তর কোরদোফানের আল সাফিয়া বাজারে নৃশংস ড্রোন হামলা চালাল আধাসামরিক বাহিনী ‘র্যাপড সাপোর্ট ফোর্সেস’ (RSF)। সোমবার সকালের এই হামলায় মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় গোটা বাজার এলাকা। এখনও পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে বহু নারী ও শিশু। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েক ডজন মানুষ।
রক্তাক্ত সোমবারের সেই ভয়াবহতা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতোই সোমবার সকালে আল সাফিয়া বাজারে ভিড় করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেনাকাটা যখন তুঙ্গে, তখনই আচমকা আকাশ থেকে নেমে আসে ড্রোন। একের পর এক বোমাবর্ষণে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চারপাশ। মুহূর্তের মধ্যে নিথর দেহে ভরে যায় বাজার। মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সাধারণ নাগরিকদের জীবনকে এখানে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হচ্ছে না।
কেন এই সংঘাত?
সুদানের এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে দুই জেনারেলের ক্ষমতার দড়ি টানাটানি। দেশের শীর্ষ পদে থাকা আবদেল ফাতাহ আল বুরহান এবং আধা সামরিক বাহিনীর প্রধান মহম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে ২০২৩ সাল থেকেই চলছে এই সংঘাত। দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল বুরহানের দখলে থাকলেও পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করেছে RSF। বিশেষ করে কোরদোফানের তেল ও সোনার খনি দখল করতেই এই জনপদে বারবার হানা দিচ্ছে তারা।
মানবিক বিপর্যয়ের মুখে সুদান
রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। ঘরছাড়া হয়েছেন ১ কোটি ১০ লক্ষেরও বেশি নাগরিক। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। একদিকে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর অন্যদিকে অনাহার— দুইয়ের সাঁড়াশী চাপে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ সুদানিদের জীবন। আন্তর্জাতিক মহল বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও রক্তপাত থামার কোনো লক্ষণই নেই।